kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

৮ লাখ টন আমন সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে সরকার

আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেড় লাখ টন গম কেনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলতি মৌসুমে আট লাখ টন আমন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে সরকার। গতকাল রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৌসুমের সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আমন সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের আমন মৌসুমে এ বছর আট লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহ করবে সরকার। এর মধ্যে তিন লাখ টন আমন ধান ও পাঁচ লাখ টন সিদ্ধ চাল কেনা হবে। এ ছাড়া আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেড় লাখ টন গম কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ৯ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে। সংগ্রহ অভিযান আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মোট ২৫১ উপেজলায় কৃষকের অ্যাপ ব্যবহার করে কৃষক কার্ডের বিপরীতে প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ তিন মেট্রিক টন ধান-চাল খাদ্যগুদামে দিতে পারবেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর আমন ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ২৭ টাকা, চালের মূল্য প্রতি কেজি ৪০ টাকা এবং গমের মূল্য প্রতি কেজি ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রান্তিক চাষিদের ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে প্রতিবছর বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ করে সরকার। আগে আমন মৌসুমে শুধু চাল সংগ্রহ করা হতো। ২০১৯ সাল থেকে আমন মৌসুমে চালের পাশাপাশি ধানও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে মাঠ পর্যায়ে ধানের দাম ভালো পাচ্ছে কৃষক।

২০২০ সালের আমন মৌসুমে দুই লাখ টন ধান, ছয় লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। গত বছর প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ধান এবং ৩৭ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল কেনা হয়েছিল। গত বছরও সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছিল ৭ নভেম্বর।

কৃষিবিদদের হিসাবে, খাদ্যনিরাপত্তার জন্য সরকারের গুদামে ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন খাদ্য মজুদ থাকা উচিত। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে খাদ্যশস্যের সরকারি মোট মজুদ ১৫ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ১৩ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন এবং গম দুই লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যনিরাপত্তায় মজুদ বৃদ্ধি করতে সরকার সচেষ্ট। আমরা বোরো সংগ্রহ অভিযানে সফল হয়েছি। সেই ধারাবাহিকতায় আমন সংগ্রহেও সফলতা অর্জন সম্ভব হবে।’

কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যেন অবৈধ মজুদ করে খাদ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ মুজিবর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তা, খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কৃষক প্রতিনিধি, কৃষক লীগের নেতাদের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও মিল মালিক প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন।



সাতদিনের সেরা