kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ নথি গায়েব

দ্রুত ‘চোর’ ধরার আশা

কেবিনেটে আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি চুরিতে কারা জড়িত, তাঁদের বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হতে পেরেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মন্ত্রণালয়ের ছয় কর্মচারীকে হেফাজতে নিয়ে দুই দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি। তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না সে সিদ্ধান্ত এখনো নেননি সিআইডি কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

ওই  ছয়জনসহ ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর আঙুলের ছাপ নিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি। গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিআইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই কয়েকজন ফাইল চুরির সঙ্গে জড়িত বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের মুখোশ উন্মোচন করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।  

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন অবশ্য গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, এর সঙ্গে কে বা কারা জড়িত থাকতে পারে তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ না কেউ এতে জড়িত থাকতে পারে। কারণ বাইরে থেকে কারও পক্ষে ওই কক্ষে প্রবেশ করার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফাইল থাকা কেবিনেটের ড্রয়ারে কার কার আঙুলের ছাপ রয়েছে, সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাসায়নিক পরীক্ষা করছে সিআইডি। নিশ্চিত হয়েই তারা ঘোষণাটি দিতে চায়।

সিআইডির হেফাজতে থাকা ছয় কর্মচারী হলেন জোসেফ সরদার, আয়শা সিদ্দিকা, বাদল, বারী, মিন্টু ও ফয়সাল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি সচিবালয়ে গিয়ে ৩ নম্বর ভবনের নিচতলার ২৪ নম্বর কক্ষ থেকে আলামত সংগ্রহ করেন সিআইডির সদস্যরা। সংস্থাটির ক্রাইম সিন ইউনিটের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় মন্ত্রণালয়ের অনেকের আঙুলের ছাপ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জোসেফ ও আয়শার কাছে আলমারির চাবি থাকত বলে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৭টি নথি খোয়া যাওয়ার জায়গা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। সিআইডি সেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেও কিছু তথ্য পেয়েছে।   তবে ফুটেজে কাদের দেখা গেছে, সে বিষয়ে সিআইডি কিছু জানায়নি।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান তদন্তে পাওয়া তথ্যের বিষয়ে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় দায়ের করা জিডির ছায়া তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারব। ’

গত ২৮ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের উপসচিব নাদির হায়দার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে সচিবালয়ের নিচতলার স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের একটি কক্ষ থেকে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়।



সাতদিনের সেরা