kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ৫৮তম সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

২৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ৫৮তম সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের দুর্গারামপুরে গতকাল বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ৫৮তম সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ বিতরণ করেন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুর্গারামপুরে বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন গতকাল বৃহস্পতিবার ৫৮তম সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ বিতরণ করেছে। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রকাশক ও বসুন্ধরা গ্রুপের ট্রেজারার ময়নাল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বাঞ্ছারামপুরের হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ বিতরণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এর একটি মাত্র উদ্দেশ্য দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। এই ঋণ শুধু নারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। নারীরা এই ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন, শাক-সবজি চাষসহ ৩২ প্রকার কাজে খুবই উপকার পাচ্ছেন।

ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান সাহেবের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়া। বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যাণে আর বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ বিতরণে কাজ করছে। এই ঋণের অর্থ দিয়ে অবৈধ কোনো ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। আহমেদ আকবর সোবহানের মতো রত্নসন্তান বাঞ্ছারামপুরে জন্মগ্রহণ করেছেন বলেই হতদরিদ্ররা এই সুবিধা পাচ্ছে। আপনারা পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করবেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, উনার সহধর্মিণী এবং পরিবারের সব সদস্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায়।’ তিনি বলেন, ‘২০০৫ সাল থেকে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত ঋণ দিয়ে যাচ্ছি। এই ঋণ পরিধি প্রথম দিকে শুধু বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা পাশের উপজেলা হোমনা ও নবীনগরে বিস্তার লাভ করেছে। শুরুতে পাঁচ হাজার টাকা করে দিলেও বর্তমানে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এই ঋণ দেওয়ার উদ্দেশ্য একটাই—দেশের মানুষকে অভাবমুক্ত করা।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, বসুন্ধরা গ্রুপ বাঞ্ছারামপুর শাখার উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন, বাঞ্ছারামপুর পৌর আওয়ামী লীগ সহসভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। বক্তৃতা শেষে ৫৭০ জন হতদরিদ্রের মধ্যে ৭০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।

উপকারভোগী আইয়ূবপুর গ্রামের হনুফা বেগম (৫০) বলেন, ‘এই ঋণের টেহা দিয়া আমার জামাই বাঁশ কিন্না মাছের ডুলা আর জুকনি বানাই আমাদের অনেক লাভ হইছে। আল্লাহর কাছে বসুন্ধরার হগলের লাইগা দোয়া করি।’

আরেক উপকারভোগী দুর্গারামপুর গ্রামের এক কলেজছাত্রী বলেন, ‘এই টাকা দিয়ে একটি সেলাই মেশিন কিনে সেলাই কাজের অর্থ দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি মায়ের সংসারে সহযোগিতা করি। সে জন্য বসুন্ধরার সবার জন্য দোয়া করি।’



সাতদিনের সেরা