kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অবৈধদের ফেরাতে প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহবান ইইউয়ের

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে উদ্বেগ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধ প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বাংলাদেশের প্রতি আহবান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গত মঙ্গলবার ব্রাসেলসে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় ইইউ ওই আহবান জানায়। একই সঙ্গে অবৈধ প্রবাসীদের দেশে ফেরানোর অগ্রগতিতে ইইউ সন্তুষ্টিও প্রকাশ করে। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া ও প্যাসিফিকবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুনার উইগ্যান্ড ইইউর পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন।

আলোচনা শেষে দুই পক্ষের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইইউ বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ ও কয়েকটি ধারার কারণে ঝুঁকির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইইউ বাংলাদেশকে ‘ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউয়ের (ইউপিআর)’ সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে উৎসাহিত করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ হালনাগাদ কিছু তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি নিজের অবস্থান ইইউকে জানিয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখা বাংলাদেশ ও ইইউর অভিন্ন মূল্যবোধের অন্যতম।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রশংসা করেছে ইইউ। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ইইউকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

আলোচনায় উভয় পক্ষ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে জোর দিয়েছে। দুই পক্ষ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের একাংশকে স্থানান্তর বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ইইউ রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, উন্নত জীবিকার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিতে জোর দিয়েছে।

আলোচনায় বাংলাদেশ ও ইইউ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইইউর সহযোগিতার নতুন কৌশলকে বিবেচনায় নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা, ডিজিটাইজেশন, কানেক্টিভিটি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইইউ তাদের নতুন সহযোগিতার কৌশল বাংলাদেশের কাছে উপস্থাপন করেছে। দুই পক্ষ মিয়ানমার, আফগানিস্তান, সমুদ্র অঞ্চলের নিরাপত্তাসহ এই অঞ্চলের রাজনৈতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে।

ওই কৌশলকে বিবেচনায় নিয়ে ডিজিটাইজেশন, কানেক্টিভিটি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই পক্ষ সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৌশলগত দিকনির্দেশনা, পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক নীতিমালায় সহযোগিতা জোরদারের জন্য নিয়মিত রাজনৈতিক আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

কভিড-১৯-পরবর্তী পরিস্থিতি উত্তরণে গণতান্ত্রিক সুশাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে দুই পক্ষই একমত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ইইউ যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা-বৈষম্যের নিন্দা জানিয়েছে।

অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা ‘এভরিথিং বাট আর্মসের’ (অস্ত্র ছাড়া সব কিছু) অব্যাহতভাবে সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে ইইউ। এ প্রেক্ষাপটে শ্রম খাতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে তা প্রকাশের জন্য বাংলাদেশকে স্বাগত জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইইউ এই কর্মপরিকল্পনা সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে।

নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কারখানা প্রতিষ্ঠায় বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশি পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার বিষয়ে ইইউ গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশ পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা যে জরুরি, সে বিষয়ে ইইউ আবার জোর দিয়েছে।



সাতদিনের সেরা