kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরও অর্ধেক অনুপস্থিত

ময়মনসিংহের চার মাধ্যমিক বিদ্যালয়
কেউ কেউ ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ দেড় বছর পর বিদ্যালয় খুললেও ক্লাসে মন নেই শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অর্ধেকই বিদ্যালয়ে আসছে না। কেউ কেউ এলেও ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত। অনেকে বিদ্যালয়ে না এসে কোচিং করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছে অনেক অভিভাবকও। ময়মনসিংহ নগরীর স্বনামধন্য চারটি বিদ্যালয়ে ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, করোনাকালের ক্ষতি পোষাতে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস ও পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির বিষয়টিতে মর্মাহত হয়েছেন শিক্ষকরা। একাধিক শিক্ষক বলেন, নিজ প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কোচিং করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ময়মনসিংহের প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর ১৬০ জন ছাত্রের মধ্যে উপস্থিত ছিল ৫৮ জন। আর ১৩৮ জন ছাত্রীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৭১ জন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক চান মিয়া বলেন, তাঁরা নিয়মিতভাবে শিক্ষকদের দিয়ে বিষয়টি মনিটর করাচ্ছেন। অভিভাবকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। বিশেষ ক্লাসেরও ব্যবস্থা করেছেন। এর পরও কেউ কেউ স্কুলে আসছে না।

সরকারি ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশ নাজুক। ১০৭ জন ছাত্রীর মধ্যে গত রবিবার উপস্থিত ছিল মাত্র ৬৪ জন। ১১৬ জন ছাত্রের মধ্যে গত শনিবার উপস্থিত ছিল মাত্র ৬৬ জন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা বেগম বলেন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাসে নিয়মিত নয়। তবে অন্য শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেকটা ভালো।

বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। তবে স্কুলে প্র্যাকটিক্যাল খাতা জমা দেওয়ার কারণে গত রবিবার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বেশির ভাগই উপস্থিত ছিল। আর দশম শ্রেণির (দিবা শাখা) ১৬২ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৮১ শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, ‘প্রায় অর্ধেক মেয়েই স্কুলে আসে না। অনেক সময় মেয়েরা স্কুলে না এসে কোচিংয়ে যায়। মেয়েদের বুঝিয়েও খুব একটা লাভ হচ্ছে না। অভিভাবকদেরও অনেকে মেয়েদের কোচিং-প্রাইভেটে যেতে উৎসাহ দেন।’

জিলা স্কুলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার অনেক কম। গত রবিবার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দিবা শাখায় ১৪০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ২২ জন। দশম শ্রেণির (দিবা শাখা) শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ৪৫ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহছিনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসার জন্য সব সময় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছেন তাঁরা। করোনার ক্ষতি কাটাতে বেশ কিছু উদ্যোগও নিয়েছেন, কিন্তু কেউ কেউ স্কুলে কম আসছে।

বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কম থাকলেও নগরীর কোচিং পাড়াখ্যাত নাহা রোড ও বাউন্ডারি রোডে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। এদিকে ক্লাস চলাকালে অনেক শিক্ষার্থীর দেখা মিলছে নগরীর পার্কে ও এর আশপাশের এলাকায়।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার খুবই সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা হবে। কাজেই শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ক্লাস বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীরা যদি প্রাইভেট পড়ে বা কোচিংয়ে যায় তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।’



সাতদিনের সেরা