kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দাওয়াই

চিত হয়ে ঘুমানোর উপকারিতা অনেক

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিত হয়ে ঘুমানোর উপকারিতা অনেক

বেশির ভাগ লোক পাশ ফিরে (ভ্রূণের মতো ভঙ্গিতে) ঘুমাতে পছন্দ করে। অনেকে হাত পা ছড়িয়েও ঘুমায়। কেউ কেউ উপুড় হয়ে না শুলে ঘুমাতেই পারে না। তবে সবচেয়ে উত্তম চিত হয়ে ঘুমানো।

বিজ্ঞাপন

না, চলচ্চিত্রে ভ্যাম্পায়ার, জোম্বি বা ফ্রাংকেনস্টাইনের দানবদের এ ভঙ্গিতে ঘুমাতে দেখে ঘাবড়াবেন না। এই ভঙ্গিতে ঘুমালে অনিদ্রা তো বটেই আপনার স্বাস্থ্যগত অনেক দুর্ভোগ থেকেও বেঁচে যাবেন।

 

১. মেরুদণ্ড ভালো থাকবে

পাশ ফিরে শুলে মাথা একদিকে ঝুঁকে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পাশ বদল না হলে এর ফলে ঘাড়ে ব্যথা তৈরি হতে পারে। এই ভঙ্গিতে মেরুদণ্ডও কিছুটা সংকুচিত হয়। আরামদায়ক বালিশ ব্যবহার করে চিত হয়ে ঘুমালে মেরুদণ্ড তার স্বাভাবিক আকৃতিতে থাকে এবং পরিপূর্ণ বিশ্রাম পায়। ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দুই হাত দুপাশে বা বুকের ওপর রেখে চিত হয়ে শোয়া বা ঘুমানো মেরুদণ্ডের ব্যথা কমানোর সর্বোত্তম উপায়।

 

২. স্বাভাবিক হবে শ্বাস-প্রশ্বাস

শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে ডায়াফ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা সংকুচিত হলে শ্বাস-প্রশ্বাস অগভীর হয়ে যায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিদ্রিত ও জাগ্রত উভয় অবস্থায়ই বিশেষভাবে উপকারী। এর ফলে স্ট্রেস কমে, কাজে মনোযোগ বাড়ে, মনমেজাজ ভালো থাকে। ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসে শরীরে মেলাটোনিনের পরিমাণ বাড়ে, যা ঘুমাতে প্ররোচিত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের (বিশেষ করে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমের) কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

 

৩. মুখে বলিরেখা পড়া ঠেকাবে

মুখের ত্বক ঠিক রাখতে ফেস ওয়াশিং থেকে শুরু করে নানা সমাধান দেওয়া হয়। এর আরেকটি চমৎকার সমাধান চিত হয়ে ঘুমানো। বালিশের কাভার মুখের ত্বক থেকে ক্ষরিত রস (সেবাম) শুষে নেয়। এর ফলে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস ছাড়াও মুখের ত্বকে লালচে ভাব এবং জ্বালাপোড়া তৈরি হতে পারে। চিত হয়ে ঘুমালে মুখে দাগ পড়ারও আশঙ্কা থাকবে না, ফোলা ফোলা ভাবও হবে না। উপুড় হয়ে ঘুমালে ঘাড়েও ভাঁজ পড়তে পারে।

 

৪. টেনশনজনিত মাথা ব্যথা কমবে

ঘাড় ও মেরুদণ্ডের মতো মাথার ওপর থেকেও চাপ কমে চিত হয়ে ঘুমালে। সার্ভিকোজেনিক হেডেক অর্থাৎ যেসব মাথা ব্যথার সূত্রপাত ঘাড়সংলগ্ন মেরুদণ্ড থেকে, যেগুলোকে অনেক সময় মাইগ্রেনের ব্যথা বলে ভুল করা হয়, সেগুলোরও অন্যতম কারণ পাশ বা উপুড় হয়ে ঘুমানো। এর ফলে ঘাড় বা মুখের একপাশে ব্যথা করে, ঘাড় শক্ত হয়, নাক ঝাড়া বা কাশি দিলে মেরুদণ্ডে ব্যথা করে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়, অস্বস্তি বোধ হয় পেটে। চিত হয়ে ঘুমালে এসব সমস্যা এড়ানো যায়।

 

৫. সাইনাসের উপশম হবে

মাথা উঁচু করে ঘুমানোর ফলে ন্যাজাল প্যাসেজও পরিষ্কার থাকে, বাতাস চলাচল হয় বাধাহীন। মাথা নিচু হয়ে থাকলে মিউকাস সাইনাসে জমার প্রবণতা বাড়ে।

এ ছাড়া ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পাশ ফিরে বা উপুড় হয়ে ঘুমালে পাকস্থলীর রস খাদ্যনালিতে চলে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর ফলে গলা বা বুক জ্বলা, মুখে দুর্গন্ধ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সূত্র : হেলথলাইনডটকম



সাতদিনের সেরা