kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার

আজ থেকে ছড়াবে জ্ঞানের আলো

শরীফ আহেমদ শামীম, গাজীপুর   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশস্ত গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখ আটকে যায় ভবনের দেয়ালে টানানো বঙ্গবন্ধুর বিশাল ছবিতে। ছবিটি এমনভাবে টানানো, যেন জীবন্ত বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ডায়াসে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছেন। ভবনের ডানপাশে অভ্যর্থনা কক্ষ, সভাপতির কক্ষ আর মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। বাঁ পাশে বঙ্গবন্ধু কর্নার, সাহিত্য কর্নার, ইসলামী কর্নার আর ছোট ছোট তাক নির্মিত বৃত্তাকৃতির চারটি পড়ার টেবিল। টেবিলের বাইরে রয়েছে বই রাখার তাক আর ভেতরে পাঠকের বসার আসন। মাঝখানে পাতাবাহারের গাছ স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে। সব কিছুতে আধুনিকতা আর নান্দনিক রুচির ছোঁয়া। আলো ঝলমলে বিশাল কক্ষের স্থানে স্থানে আলমারিতে রাখা থরে থরে বই।

নান্দনিক রুচির এই ভবনটি ‘কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার’। অপেক্ষার প্রহর শেষে জ্ঞানের আলো ছড়াতে আজ বুধবার উদ্বোধন করা হবে গ্রন্থাগারটি। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় গ্রন্থাগারটির উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ব্যাংকের মোড় এলাকায় কালীগঞ্জ আরআরএন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত আড়াই বিঘা জমি রয়েছে। এই জমির চারপাশে দেয়াল নির্মাণ করে একপাশে গড়ে তোলা হয়েছে গ্রন্থাগারটি। গ্রন্থাগারের মূল ভবনটি দুই হাজার ১০০ বর্গফুটের। বাইরে খোলা জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ। নাম দেওয়া হয়েছে ‘ময়েজউদ্দিন মঞ্চ’। আরেক পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে ফুলের বাগান। গ্রন্থাগারটিতে বইয়ের পাশাপাশি রাখা হয়েছে পত্রিকা পড়ার ব্যবস্থাও। রবিবার ছাড়া প্রতিদিন গ্রন্থাগারটি খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

গ্রন্থাগারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক কোটি টাকা। ২৩ লাখ টাকা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাকি টাকা অনুদান হিসেবে দিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পাঠকের পাঠ চাহিদা পূরণ করতে এরই মধ্যে গ্রন্থাগারটির তাকে উঠে গেছে দুই হাজার বই। চলতি সপ্তাহেই তোলা হবে আরো বই।

তিন বছর আগে গ্রন্থাগারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবলী সাদিক। কথা প্রসঙ্গে তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, শিক্ষার প্রসার এবং জ্ঞানপিপাসু মানুষের কথা চিন্তা করে গ্রন্থাগারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি নির্মাণে বিপুল উৎসাহ জুগিয়েছেন কালীগঞ্জ আরআরএন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান মানিক। পাশাপাশি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুদান দিয়ে ব্যাপক সহায়তা করেছেন। গ্রন্থাগারটিতে রাখা যাবে ৫০ হাজার বই। আর একসঙ্গে বসে ৩০ থেকে ৩৫ জন পাঠক তাঁদের পাঠ তৃষ্ণা মেটাতে পারবেন।

শিবলী সাদিক আরো জানান, গ্রন্থাগারটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য পদাধিকার বলে প্রধান উপদেষ্টা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র উপদেষ্টা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি, আরআরএন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদস্যসচিব এবং উপজেলা পর্যায়ের সব কর্মকর্তা (দপ্তর প্রধান) ও উপজেলার আটটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সার্বক্ষণিক সদস্য করে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এক হাজার টাকা ফি দিয়ে সাধারণ সদস্য এবং ৫০ হাজার টাকা দিয়ে স্থায়ী সদস্য (আজীবন) হওয়া যাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারবেন। এলাকার শিক্ষা প্রসারে মূল কেন্দ্রে পরিণত হবে কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। এমটাই মনে করছে স্থানীয় লোকজন।



সাতদিনের সেরা