kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মনোবল ফেরাবে সরকার

পুনর্বাসন, সম্প্রীতি সংলাপ ও দ্রুত বিচার আইনে মামলার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে সম্প্রতি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মনোবল ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সম্প্রীতি সংলাপ আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত বিচার আইনে করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ে এক বিশেষ সভা শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেবালয়, মন্দির, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি এবং হতাহতদের পুনর্বাসন বিষয়ে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, অসীম কুমার উকিল, পঙ্কজ দেবনাথ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল আউয়াল হাওলাদার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংস্থা ও আইন) ও সচিব হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট মো. মুনিম হাসান ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে সম্প্রীতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব কিছু করবে। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে একটি গোষ্ঠী দেশের সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে তৎপর রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্গাপূজা চলাকালে বিভিন্ন অজুহাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ করে দেশের সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করেছে। এসব জঘন্য কর্মে জড়িত ব্যক্তিদের অনেককেই এরই মধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং দ্রুত এদের বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা এবং তৎপরবর্তী সময়ে সংঘটিত সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেবালয় ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি এবং হতাহতদের পুনর্বাসন করা হবে। তিনি বলেন, মৌলবাদীদের দ্বারা সংঘটিত পূর্বপরিকল্পিত এই সহিংসতায় হিন্দু ধর্মীয় ব্যক্তিদের মনোবল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনোবল দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য সরকারের স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিষয়ে দ্রুত আলোচনাসভার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। এ ঘটনায় করা মামলা দ্রুত বিচার আইনে করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় বা আন্তর্ধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এক ও অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

 



সাতদিনের সেরা