kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

মিয়ানমারকে বাদ দিয়ে আসিয়ান সম্মেলন শুরু

জান্তা সরকারের তীব্র সমালোচনা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জান্তা সরকারের তীব্র সমালোচনা

মিয়ানমারকে ছাড়াই শুরু হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্থা আসিয়ানের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের অংশগ্রহণে গতকাল মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সম্মেলনটির উদ্বোধন হয়। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানমারকে সম্মেলন থেকে বাদ দেওয়া হয়। সম্মেলনের শুরুতেই নেতারা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

কাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিনের এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়েরও অংশ নেওয়ার কথা।

গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে উত্খাত করে ক্ষমতা দখল করে নেয়। সে সময় দেশটির নেত্রী অং সান সু চিসহ বেশ কয়েকজন নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূলত তখন থেকেই দেশের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছে বিতর্কিত জান্তা সরকার। গত এপ্রিলে মিয়ানমারে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আসিয়ানের বিশেষ সম্মেলনে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল সেগুলো যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। জান্তা সরকার সে সময় বিভিন্ন বিষয়ে একমত হলেও তারা তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।

আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলো হলো কম্বোডিয়া, ব্রুনেই, লাওস, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনস, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। মিয়ানমার ১৯৯৭ সালে আসিয়ানের সদস্য পদ লাভ করে।

সম্মেলনে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংকে আমন্ত্রণ জানায়নি আসিয়ান। তবে  অরাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক চ্যান আই ইকে আমন্ত্রণ জানান সংস্থার বর্তমান সভাপতি ব্রুনেই। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি এতে যোগ দেননি।

গতকাল সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বলেন, ‘আজ আসিয়ান তাদের কর্মকাঠামো থেকে মিয়ানমারকে বাদ দেয়নি। মিয়ানমারই তাদের অধিকার পরিহার করেছে। এখন আমরা আসিয়ানে এক সদস্যকে ছাড়া ‘মাইনাস-ওয়ান’ পরিস্থিতিতে পড়েছি। এ পরিস্থিতি আসিয়ানের কারণে নয়, মিয়ানমারের কারণে সৃষ্টি হয়েছে।’

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেত্নো মারসুদি বলেন, ‘আসিয়ানে মিয়ানমারের জন্য স্লট প্রস্তুত আছে, কিন্তু মিয়ানমার তাতে যোগ না দেওয়াটাই বেছে নিয়েছে।’ মিয়ানমার সম্মেলনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আসিয়ানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অনভিপ্রেত মনোভাব দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের একজন অরাজনৈতিক প্রতিনিধিকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব সহজ ছিল না। কিন্তু এটি করতে হয়েছে।’

রেত্নো বলেন, ‘সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে সম্মান জানানো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান এবং সাংবিধানিক সরকারের মতো বিষয়গুলোতে আমাদের নীতি সমুন্নত রাখতেও আমরা দায়বদ্ধ।’ সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা