kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বেতন কাটা বন্ধ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বিমান পাইলটরা

চুক্তির বাইরে কাজ না করার সিদ্ধান্ত
শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পরও বেতন কাটা অব্যাহত রাখায় বাড়তি সময় ফ্লাইট পরিচালনা থেকে বিরত আছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলটরা। এতে শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থাটি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ আছে ২১টি।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ১৬টি নিজস্ব, পাঁচটি লিজ। বিমানে বর্তমানে ১৫৭ জন পাইলট কাজ করছেন। করোনা মহামারি শুরুর পর গত বছর বিশ্বের আকাশপথে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ কর্মীদের বেতন কমিয়ে আনে। ২০২০ সালের মে মাস থেকে পাইলটদের বেতন ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কাটা হচ্ছে।

তিন মাস আগে পাইলটরা ধর্মঘটের হুমকি দিলেও বিমান কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলনে যাননি। পরে ১৪ জুলাই বিমান কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছিলেন পাইলটরা। ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বিমানের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো বেতন সমন্বয় করতে অনুরোধ করেন তাঁরা। বেতন সমন্বয় না করলে পাইলটরা বিমান ও বাপার মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে ফ্লাইট পরিচালনা করবেন বলেও ঘোষণা দেয় বিমানের পাইলটদের সংগঠন বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।

জানতে চাইলে বাপা সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একাধিকবার বেতন কাটার বিষয়ে বিমান ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বোর্ড মিটিংয়ে এ বিষয়টির সমাধান হবে। কয়েক মাসেও বিষয়টি সমাধান হয়নি। এখনো বেতন কাটায় পাইলটরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা যদি এখন বিমান ও বাপার মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বাইরে ফ্লাইটে না যায়, তাতে তো বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। ’

তিনি বলেন, ‘দুই মাসেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পাইলটরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের সঙ্গে বিমানের যে চুক্তি, সেটার বাইরে তারা কোনো কাজ করবে না। ’

পাইলটরা জানান, বিমান ও বাপার মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী পাইলটদের মাসে ৭৫ ঘণ্টা ফ্লাই করার কথা এবং মাসে আট দিন ছুটি পাওয়ার কথা।

এদিকে পাইলটদের কর্মবিরতিতে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দোহাগামী ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ে ছাড়া সম্ভব হয়নি, তবে রাত সাড়ে ৯টার সময় পুনর্নির্ধারিত হয়েছে। দুবাইগামী ফ্লাইটটি রাত সোয়া ৮টায় ছেড়ে গেছে।

বিমানের প্রশাসন বিভাগ ১৩ জুলাই এক আদেশে  জানায়, ২৮ জুন অনুষ্ঠিত বিমান পরিচালনা পর্ষদের ২৫৬তম সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বেতনক্রম-৬ ও তার ওপরের কর্মকর্তাদের বেতন কর্তনের হার হ্রাস করা হয়েছে। সে আদেশে বলা হয়, বেতনক্রম ৬ থেকে ৮ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের জুলাই মাস থেকে আর বেতন কাটা হবে না, যা আগে গ্রস স্যালারি থেকে ১০ শতাংশ কাটা হতো। বেতনক্রম ৯ থেকে তার ওপরের কর্মকর্তাদের জুলাই মাস থেকে আর বেতন কাটা হবে না, যা আগে গ্রস স্যালারি থেকে ১৫ শতাংশ কাটা হতো। তবে পাইলটদের বেতন কাটা বন্ধ করা হয়নি।



সাতদিনের সেরা