kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

যশোর শিক্ষা বোর্ড

আরো আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতি

যশোর প্রতিনিধি   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরো আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতি

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ১৫ দিনের ব্যবধানে আরো দুই কোটি ৪৩ লাখ সাত হাজার ৮৭৮ টাকার চেক জালিয়াতি ধরা পড়েছে। ১৬টি চেকের মাধ্যমে এই জালিয়াতি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) এটি ধরা পড়ে। এর আগে ৭ অক্টোবর ৯টি চেকে আড়াই কোটি টাকার জালিয়াতি ধরা পড়ে। এরপর ১১ অক্টোবর একটি চেকে ১৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকার জালিয়াতি ধরা পড়ে। প্রথম ঘটনায় দুদক মামলা করেছে।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি ধরা পড়লে গোপনে দুদকে (দুর্নীতি দমন কমিশন) আরো একটি অভিযোগ দেয় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের হিসাব ও অডিট শাখার উপপরিচালক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ অনিয়মের সঙ্গে বোর্ডের হিসাব সহকারী আবদুস সালাম ও ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম বাবু জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে এর আগে ৭ অক্টোবর আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে, যে ঘটনায় দুদক বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, হিসাব সহকারী আবদুস সালামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে সরকারি কোষাগারে জমার জন্য আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ১০ হাজার ৩৬ টাকার ৯টি চেক ইস্যু করা হলেও এসব চেক দিয়ে দুই কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করেন ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ও শাহী লাল স্টোর নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। ৭ অক্টোবর এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বোর্ডের হিসাব ও অডিট বিভাগ তাদের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা অব্যাহত রাখে। এর ফলে ১৮ অক্টোবর পাঁচটি চেকে চার লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৪ টাকার স্থলে ২১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য মেলে। এরপর ২১ অক্টোবর ১১টি চেকের বিপরীতে ১০ লাখ ১৫ হাজার ২৬৬ টাকার স্থলে দুই কোটি ২১ লাখ আট হাজার ৯৪৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি হিসাব শাখা থেকে বোর্ডের সচিবকে পত্র দিয়ে অবহিত করা হয়। ওই দিনই বোর্ডের সচিব দুদক যশোরে নতুন করে দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট বিজনেস আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আয়কর বাবদ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা তুলে নেওয়া হয়। একই বছরের ৪ অক্টোবর শহরের জামে মসজিদ লেনের নূর এন্টারপ্রাইজের নামে ৫৯ হাজার ৩৫ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেসের নামে দুই লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা এবং নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে দুই লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে ৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে আরো দুই কোটি ৪৩ লাখ সাত হাজার ৮৭৮ টাকা তুলে নিয়েছেন হিসাব সহকারী আবদুস সালাম। এর মধ্যে সেকশন অফিসার আবুল কালাম আজাদের নামে ৯৪ হাজার ৩১৬ টাকা এবং আবদুস সালামের নিজ নামে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা আরো প্রায় আড়াই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। দুদকে ২১ অক্টোবর আরো একটি অভিযোগ জমা দিয়েছি। ঘটনার সময় বর্তমান বোর্ড চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন বোর্ডের সচিব ছিলেন। হিসাব সহকারী আবদুস সালাম তখনো হিসাব শাখার দায়িত্বে ছিলেন। এসব অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আবদুস সালামের অন্যতম সহযোগী বোর্ডের ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম বাবু। তিনি বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে দীর্ঘদিন বোর্ডে কাজ করছেন এবং সেসব প্রতিষ্ঠানের নামেই চেকগুলো দিয়ে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এখন দুদক বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’



সাতদিনের সেরা