kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

সড়ক দুর্ঘটনায় কর্মকর্তা নিহত

আশ্বাস দিয়েও ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না এ্যাংকর সিমেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আশ্বাস দিয়েও ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না এ্যাংকর সিমেন্ট

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হাবিব খান অনিকের পরিবারকে দেওয়া আশ্বাস রাখছে না এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ অনিকের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেয়। ফলে তাঁর পরিবার কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফন করে।

অনিক বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বরিশাল অঞ্চলের বিভাগীয় বিক্রয় ব্যবস্থাপক (ডিএসএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দক্ষিণ শিবপুর গ্রামে। তাঁর বাবা ফারুক খান মুদি দোকান চালান। অনিক ১১ মাস আগে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

গত সোমবার দুপুরে পেশাগত কাজে বরিশাল থেকে ঝালকাঠি যাওয়ার পথে রাজাপুর থানার নলবুনিয়া বাজার এলাকায় এ্যাংকর সিমেন্টের নীল রঙের একটি ট্রাক (বরিশাল মেট্রো-ট-১১-০০৪৭) অনিককে বহনকারী বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রাইভেট কারকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। প্রাইভেট কারে থাকা অনিক মাথায় গুরুতর আঘাত পান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিক মারা যান। এই ঘটনায় বসুন্ধরা ফুডের আরেক কর্মকর্তা শাহিনূর রহমান এবং প্রাইভেট কারের চালক হানিফ হাওলাদার আহত হন। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুটি গাড়িই থানায় নিয়ে যায়। এ্যাংকর সিমেন্টের ট্রাকচালক সুজন হাওলাদার পালিয়ে যান।

জানতে চাইলে এ্যাংকর সিমেন্টের পরিবহন বিভাগের প্রধান আলী আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কয়েকজন আমাদের কাছে এসেছিলেন। তাঁদের প্রস্তাব গ্রহণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

এ্যাংকর সিমেন্টের সিইও মেজর (অব.) শাহেদ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। তাই এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হবে। এ জন্য আমরা একটু অপেক্ষা করছি। আমাদের ট্রাকটি নিয়ে আসতে পারলে এবং কোনো মামলা না হলে আমরা ক্ষতিপূরণের কথা চিন্তা করতে পারতাম।’ ঘটনার তিন দিন পর মামলা হয়েছে—এ তথ্য জানালে তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন রাতে পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা করেছে।’ রাজাপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন কোনো মামলা হয়নি। মামলা হয়েছে তিন দিন পর।

দুর্ঘটনায় আহত বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এজিএম মো. শাহীনূর রহমান বলেন, ‘বসুন্ধরা ফুডের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সহায়তা করা হচ্ছে। এ্যাংকর গ্রুপ প্রথমে সহায়তা করে মীমাংসার কথা বললেও এখন গড়িমসি করছে।’

নিহত অনিকের পরিবার জানায়, এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করায় ঘটনার তিন দিন পর গত শুক্রবার নিহতের চাচা সামাদ খান ঝালকাঠির রাজাপুর থানায় একটি মামলা করেন। সামাদ খান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরই এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়ে মীমাংসা করার কথা বললে কোনো আইনি পদক্ষেপ ছাড়াই আমরা লাশ দাফন করি। কিন্তু এখন এ্যাংকর সিমেন্ট বলছে ক্ষতিপূরণ দেবে না, আমাদের যা করার করতে। তাই শুক্রবার একটি মামলা করেছি।’

এ্যাংকর সিমেন্টের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঝালকাঠির রাজাপুর থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ্যাংকর সিমেন্ট ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছিল। পরে কী কারণে তারা বিষয়টি মীমাংসা করেনি তা বলতে পারছি না। তাই তিন দিন পর এ্যাংকর সিমেন্টের ট্রাকচালককে আসামি করে নিহতের পরিবার একটি মামলা করেছে। আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছি।’



সাতদিনের সেরা