kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

৪২ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

টিকার রেজিস্ট্রেশন সাড়ে ২৫ লাখের

শরীফুল আলম সুমন   

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিকার রেজিস্ট্রেশন সাড়ে ২৫ লাখের

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর একে একে খুলতে শুরু করেছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এরই মধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয়েছে, নেওয়া হচ্ছে সশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষা। তবে হলে ওঠার শর্ত হিসেবে এক ডোজ টিকা নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অধিভুক্ত তিন বিশ্ববিদ্যালয় বাদে বাকি ৩৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্র জানায়, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ। এরই মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ লাখ ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক লাখ। এর বাইরে ৩৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় তিন লাখ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ইউজিসিতে পাঠানো তথ্যে বলা হয়, গত সোমবার পর্যন্ত ২৫ লাখ ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৩ লাখ ৫০০ জন শিক্ষার্থী। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন দুই লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী। তবে ৩৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই প্রথম ডোজ নিয়েছেন। সেই সংখ্যা ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে হবে বলে ইউজিসি জানিয়েছে।

ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলতি মাসের মধ্যে প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ই খুলে যাবে। তবে দু-চারটি বাদ থাকতে পারে। কারণ দেখা যাচ্ছে, তাদের পরীক্ষা চলছে। সেটা শেষ করে তারা খুলতে চায়। তবে এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত। ইতিমধ্যে ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী প্রথম ডোজ নিয়েছেন। এ ছাড়া এখন জন্ম নিবন্ধনের নম্বর দিয়েও শিক্ষার্থীরা সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন। আমরা দ্রুততার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজ শেষ করার চেষ্টা করছি। ’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, টিকায় পিছিয়ে আছে অধিভুক্ত তিন বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২ লাখেরই জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। আর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কত শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র আছে বা কতজন টিকা নিয়েছেন, সে তথ্য ইউজিসির হাতে নেই।

তবে টিকা না দিয়েই খুলে দেওয়া হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে  দুই হাজার ৬০০ অধিভুক্ত কলেজে অনলাইনের পাশাপাশি সশরীরেও পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, যেসব শিক্ষার্থীর এনআইডি নেই, তাঁরা জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারছেন। সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ কোটি ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যেসব শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে রাখবেন, তাঁরা ওই সময়ের মধ্যে টিকা পাবেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত কলেজের দুই লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার জন্য অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র চালু হচ্ছে। সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীরা টিকা নিতে পারবেন।

প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে গত ৫ অক্টোবর অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো। এরপর ১০ অক্টোবর হল খুলেছে সব বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য। আর গত ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে সশরীরে ক্লাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনার টিকার আওতায় এসেছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

উপাচার্য বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগের হিসাব অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনার টিকার আওতায় আসে। এখন এ হার প্রায় ৯৬ শতাংশ হবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র স্থাপন করেছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই সচেতন। সবাই স্বেচ্ছায় টিকা নিয়েছে। ’

আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে সরাসরি ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একাডেমিক কাউন্সিল। এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই সশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু করেছে। তবে এখনো যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেনি, এ সপ্তাহেই তাদের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভা রয়েছে। সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।



সাতদিনের সেরা