kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

সাক্ষ্যগ্রহণে আটকে আছে বিচার

হোসেনি দালানে বোমা হামলা

মাসুদ রানা   

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাক্ষ্যগ্রহণে আটকে আছে বিচার

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি বোমা হামলা চালায়। এতে দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়। ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের এক বছরের মাথায় তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর ১০ জঙ্গির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। অথচ বিচার শুরু হলেও সাক্ষ্যগ্রহণে আটকে আছে এই কার্যক্রম।

বর্তমানে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন। সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে থাকা এ মামলায় সর্বশেষ গত ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। আগামী ১৫ নভেম্বর মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য রয়েছে। এই পর্যন্ত মামলায় মোট ৪৬ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে হোসেনি দালান এলাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এ ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় এসআই জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি চকবাজার থানার পুলিশ তদন্ত করে। পরে এর তদন্তভার ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ডিবি দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিউদ্দিন শেখ ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে ১০ জঙ্গিকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর মামলাটি ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়।

২০১৭ সালের ৩১ মে ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পর ওই আদালতে মামলার বাদী মো. জালাল উদ্দিন সাক্ষ্য দেন। এরপর ২০১৮ সালের ১৪ মে মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়। মামলাটি বদলি হওয়ার পর থেকে গতি পায়। ট্রাইব্যুনালে আসার পর ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এরই মধ্যে অভিযোগপত্রে থাকা ১০ আসামির মধ্যে জাহিদ হাসান ও মাসুদ রানার পক্ষে তাদের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন ওই আসামিরা নাবালক। এর সপক্ষে জন্ম সনদ, পরীক্ষার সনদ জমা দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালে। আদালত কাগজপত্র পরীক্ষা শেষে তাদের শিশু হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী ওই দুই আসামিকে শিশু আখ্যায়িত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন। বিচারের জন্য অভিযোগপত্র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, ওই হামলায় ১৩ জঙ্গি জড়িত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানের সময় তিন জঙ্গি ক্রসফায়ারে মারা যান। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা সবাই জেএমবির সদস্য। তাঁরা হলেন কবির হোসেন, রুবেল ইসলাম, আবু সাঈদ, আরমান, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাসুদ, শাহ জালাল, ওমর ফারুক, চান মিয়া, জাহিদ হাসান ও মাসুদ রানা। আসামিদের মধ্যে আরমান, রুবেল ও কবির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আবদুল্লাহ বাকি ওরফে নোমান ছিলেন হোসেনি দালানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। হামলার আগে ১০ অক্টোবর তাঁরা বৈঠক করে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।

সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গোলাম সারোয়ার জাকির  বলেন, ‘মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে। কারোনার কারণে দুই দফা আদালত সাধারণ ছুটিতে থাকায় বিচার কার্যক্রম হয়নি। বর্তমানে আদালতের কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। এখন থেকে সাক্ষীদের নিয়মিত আদালতে হাজির করে যত দ্রুত সম্ভব মামলাটির বিচারকাজ শেষ করার চেষ্টা করব।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মদ বলেন, ‘এ পর্যন্ত যতজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁরা কেউ-ই আসামিদের নাম বলেননি। ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬১ ধারায়ও সাক্ষীরা আসামিদের নাম বলেননি, এ জন্য তাঁদের জেরাও করা লাগেনি। তবে যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।’



সাতদিনের সেরা