kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন

আ. লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই ২৪টিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অনেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। গতকাল রবিবার রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে বেশ কয়েকটি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ১৬টি ইউপির মধ্যে ৯টিতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। সীতাকুণ্ডে ৯টি ইউপির মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি। শেরপুরের একটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। একই অবস্থা কুমিল্লার লাকসামে পাঁচটি, ফেনীর ফুলগাজীতে দুটি, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের একটি এবং কিশোরগঞ্জের দুটি ইউপিতে।

দ্বিতীয় ধাপে মোট ৮৪৮টি ইউপিতে আগামী ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। ২০ অক্টোবর হবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। প্রত্যাহার করা যাবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, প্রত্যাহারের শেষ দিনে এ ধাপে মোট কতজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, সে সংখ্যা জানা যাবে।

শেরপুরের সদর উপজেলার ১ নম্বর কামারের চর ইউনিয়নে জেলা যুবলীগ সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

মিরসরাইয়ের ১৬ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে ৯টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তাঁরা বিনা ভোটে বিজয়ী হওয়ার পথে রয়েছেন। সীতাকুণ্ডে ৯টি ইউপির মধ্যে চারটিতে একক প্রার্থী। তাঁরা হলেন সৈয়দপুর ইউপিতে তাজুল ইসলাম নিজামী, মুরাদপুর ইউপিতে এস এম রেজাউল করিম বাহার, কুমিরা ইউপিতে মোর্শেদ হোসেন চৌধুরী ও সোনাইছড়ি ইউপিতে মুনীর আহমেদ।

সিঙ্গাইর উপজেলার ১১টি ইউপির মধ্যে ১ নম্বর বায়রা ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ান জিন্নাহ লাঠু ছাড়া আর কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

বাজিতপুর উপজেলার ১১টি ইউপির মধ্যে বলিয়ারদী ও হালিমপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন বলিয়ারদীতে আবুল কাশেম এবং হালিমপুরে ওমর ফারুক রাসেল।

ফুলগাজীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়া দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন সদর ইউপির মোহাম্মদ সেলিম ও আনন্দপুর ইউপির মো. হারুন মজুমদার। লাকসামে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের পথে রয়েছেন উত্তরদা ইউপিতে মো. ইমাম হোসেন, গোবিন্দপুর ইউপিতে নিজাম উদ্দিন শামীম, লাকসাম পূর্ব ইউপিতে আলী আহম্মদ, কান্দিরপাড় ইউপিতে ওমর ফারুক, আজগরা ইউপিতে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।

অন্যদিকে গতকাল কয়েকটি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম মন্টুর প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে মন্টু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন তৈরিতে স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

নির্বাচন কমিশন জানায়, দ্বিতীয় ধাপে ৬৩ জেলার ১১৩ উপজেলার ৮৪৬ ইউপিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। গতকাল শেষ দিন পর্যন্ত  চেয়ারম্যান পদে মোট চার হাজার ৮০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ৮৩৮ ইউপিতে প্রার্থী হয়েছেন। অন্য আট ইউপির মধ্যে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় আওয়ামী লীগের কেউ দলীয় প্রতীকে প্রার্থী হননি। এ ছাড়া রাঙামাটির বরকল উপজেলার একটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী দিয়েছে ৩৬৮ ইউপিতে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ৬৫৫। অন্যান্য দলের মধ্যে  জাতীয় পার্টির ১০৭, জেপি তিন, কংগ্রেস সাত, জাকের পার্টি ৪৯, জাসদ ২৬, সিপিবি পাঁচ ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়েছে।



সাতদিনের সেরা