kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

বাধাহীন অবৈধ ভবন

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জনবল সংকটের কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কার্যক্রম। সংস্থাটির নজরদারির অভাবে আইন অমান্য করেই নগরীতে তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন বাড়ি। এসব অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার; কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির হিসাব শাখায়। এই সুযোগে কোনো বাধা ছাড়াই একের পর এক অবৈধ ভবন নির্মাণ করে চলছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

বিজ্ঞাপন

আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পান ফয়সাল রায়হান; কিন্তু যোগদানের পরই তাঁকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। দেড় বছর ধরে আরডিএর হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদটি শূন্য। এ কারণে হিসাব বিভাগের কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিল।

তবে ফয়সাল রায়হান ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব নেওয়ার পর কার্যক্রম অনেকটা সচল হয়। এদিকে হিসাব বিভাগের কার্যক্রম সচল হলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যস্ততার কারণে নগরীর অবৈধ ভবন উচ্ছেদ অভিযান অনেকটা থমকে রয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, নীতিমালার বাইরে গিয়ে একের পর এক বাড়ি নির্মাণ করছেন প্রভাবশালীরা।

গত বছরের শুরুর দিকে রাজশাহী নগরীর মহিষ বাথান এলাকায় ১০ তলা বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেন শরিফুল ইসলাম বাবু নামের এক ব্যক্তি। আরডিএর নিয়মনীতি অমান্য করে বাড়িটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিবেশী সওগাতুল ইসলাম; কিন্তু অভিযোগ পেয়েও কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি আরডিএ কর্তৃপক্ষ। এই সুযোগে কোনো বাধা ছাড়াই ওই ভবনের বেশির ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছেন বাড়ির মালিক শরিফুল ইসলাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত তিন মাসেই আরডিএতে অবৈধ ভবন নির্মাণ বিষয়ে শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে; কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেসব অভিযোগ নিয়ে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরডিএ সূত্র মতে, সংস্থাটির সব মিলিয়ে ১০৫ জন জনবলের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র অর্ধশত। তাঁদের মধ্যে অনেকে অসুস্থতাজনিত ছুটিতে আছেন। ফলে চরম জনবল সংকটে ভুগছে নগর উন্নয়নের বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানটি।

গত রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে আরডিএ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অনেকটা হতাশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় আব্দুল ওহাব নামের এক ব্যক্তিকে। কী কাজে এসেছিলেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্লটের সীমানা বুঝে নেওয়াসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দুই বছর ধরে ঘুরছি; কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই কাজ এখনো করে দিতে পারেনি। ’

মহিষ বাথান এলাকার সওগাতুল ইসলাম বলেন, ‘আমার প্রতিবেশী যে বহুতল ভবনটি নির্মাণ করছেন, সেটি অবৈধ। তিনি কোনো জায়গা ছাড়েননি। এ নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। ’

তবে অভিযুক্ত ভবন মালিক শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনেই বাড়ির নির্মাণকাজ করছেন। প্রতিবেশীর করা অভিযোগ সঠিক নয়। তাই আরডিএ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

একই দিন আরডিএর হিসাব শাখায় গিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল রায়হানকে ওই শাখার কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে হিসাব শাখায় কাজ করছি। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত দুটি উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করেছি। প্রায়ই আমার কাছে অবৈধ ভবন নির্মাণসংক্রান্ত নানা অভিযোগ আসছে; কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সব কাজ করা যাচ্ছে না। ’

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জনবল সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা