kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথ

পরীক্ষামূলক ফেরি চালিয়েও নিরাশা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ও শরীয়তপুর সংবাদদাতা   

১৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরীক্ষামূলক চালিয়ে সফলতা না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মুখেই পড়ে গেল শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথের ফেরি চলাচল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেরি ‘কুঞ্জলতা’ পাঁচটি ছোট গাড়ি ও ২৯টি মোটরসাইকেল নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে বাংলাবাজার ঘাটের দিকে পরীক্ষামূলকভাবে ছেড়ে যায়। তবে পদ্মায় প্রবল স্রোত থাকায় এখনো ওই পথে ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। স্রোতের তীব্রতায় আবারও ফেরি পদ্মা সেতুর পিলারে আঘাত হানতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে নাব্যতা সংকটের কারণে শরীয়তপুরের জাজিরার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ফেরিঘাটটিও এখনো চালু করা যায়নি। এই ঘাট নির্মাণে ৪০ লাখ টাকা খরচ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। পদ্মা নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়া এবং কয়েক দফা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগার কারণে গত ১৮ আগস্ট থেকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে ২৫ আগস্ট জাজিরার নতুন ওই ফেরিঘাটটি প্রস্তুত করা হয়। এর আগে দীর্ঘ ৪৬ দিন বন্ধ থাকার পর গেল ৫ অক্টোবর থেকে এই পথে ফেরি চলাচল শুরু হয়। পরে সাত দিনের মাথায় গত সোমবার থেকে এই নৌপথে ফেরি চলাচল আবার বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। গতকালও পরীক্ষামূলক ফেরি চালিয়ে ওই নৌপথ চালুর চেষ্টা করেছিল কর্তৃপক্ষ।

গতকাল পরীক্ষামূলকভাবে চলা ফেরিতে ছিল বিআইডাব্লিউটিসি, বিআইডাব্লিউটিএ, সেতু কর্তৃপক্ষ ও পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যসহ একটি পর্যবেক্ষক দল। ওই দলে থাকা বিআইডাব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) মো. আশিকুজ্জামান জানান, তিন দিন বন্ধ থাকার পর বিআইডাব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচলের উদ্যোগ নেয়। ফেরি কুঞ্জলতা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে দেখা হয়। কিন্তু পদ্মায় এখনো স্রোতের তীব্রতা রয়েছে, যা ফেরি চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। স্রোতের টানে আবারও ফেরি পদ্মা সেতুর পিলারে আঘাত করতে পারে। তাই পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে এখনই ফেরি চলাচল করা ঠিক হবে না। আগামী সপ্তাহে আবারও পরীক্ষামূলক ফেরি চালিয়ে দেখা হবে।

এদিকে বিআইডাব্লিউটিএ ও বিআইডাব্লিউটিসি সূত্র জানায়, গত জুলাই ও আগস্টে বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া যাওয়ার পথে পদ্মা সেতুর পিলারে পাঁচ দফা ফেরির ধাক্কা লাগে। এই পরিস্থিতিতে ১৮ আগস্ট থেকে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জাজিরার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট এলাকায় গত ২৫ আগস্ট নতুন করে একটি ফেরিঘাট নির্মাণ করে বিআইডাব্লিউটিএ।

শরীয়তপুর সড়কের মাথায় পদ্মা নদীতে জিওব্যাগ ফেলে কিছু অংশ ভরাট করে সেখানে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫০ ফুট প্রশস্ত ফেরিঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছে। বালুভর্তি জিওব্যাগের ওপর বাঁশ, ইট ও বালু দিয়ে নির্মাণ করা হয় ঘাটটি।

বিআইডাব্লিউটিএ ও বিআইডাব্লিউটিসির পক্ষ থেকে গত সেপ্টেম্বরে সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝি ঘাট-শিমুলিয়া নৌপথ সার্ভে করা হয়। ওই নৌপথের জাজিরার নাওডোবা পদ্মা সেতুর চ্যানেল ধরে ভাটিতে ফেরিগুলো চলাচল করার পরামর্শ দেয় ওই দল। ওই চ্যানেল দিয়ে লৌহজং টার্নিং হয়ে শিমুলিয়া যাতায়াত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ফেরিগুলো পদ্মা সেতুর ভাটিতে  অন্তত ৩০০ মিটার থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বে পদ্মা সেতুর পাশ দিয়ে চলার কথা ছিল।

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। পারাপারে সময় লাগে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট থেকে দুই ঘণ্টা। সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটের নৌপথের দূরত্ব আট কিলোমিটার। পারাপারে সময় লাগবে এক ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট। নতুন এ ঘাটে ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স, সরকারি দপ্তরের জরুরি গাড়ি পারাপার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পদ্মা সেতুর ৩৭ নম্বর পিলার থেকে ৪২ নম্বর  পিলার পর্যন্ত নাব্য সংকট ও বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আপাতত ওই নৌপথে ফেরি চালানো যাচ্ছে না।

বিআইডাব্লিউটিএর উপসহকারী প্রকৌশলী হারিজ আহমেদ বলেন, ছাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই ঘাটটি চালু হচ্ছে না।

বিআইডাব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও পরিচালন বিভাগের সহকারী পরিচালক ওবায়দুল করিম খান বলেন, এই পথে ফেরি চলাচলের জন্য ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে ঘাটটি চালু করা যায়নি।



সাতদিনের সেরা