kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এক মৃত্যু অনেক প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক মৃত্যু অনেক প্রশ্ন

সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্য

শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় ১৭ বছরের কিশোরী সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্য। শরীরের ৯০ শতাংশ পোড়া নিয়ে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জন্ম দেয় মৃত এক কন্যাসন্তান। কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৃথিবী থেকেও বিদায় নেয় ওই কিশোরী।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্বামী শেখ সাদী হোসায়েনের সঙ্গে বচসার এক পর্যায়ে সুরাইয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দায় শ্বশুরবাড়িতে কেরোসিন ঢেলে নিজের শরীরে আগুন দেয়।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রথমে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক দিন পর সেখান থেকে তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিন ধরে ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিল সুরাইয়া। গতকাল সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ রক্তক্ষরণ শুরু হয় তার। এরপর সন্ধ্যায় মৃত কন্যাশিশুর জন্ম হওয়ার পরই তার মৃত্যু হয় জানিয়ে ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন আইউব হোসেন বলেন, মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য সব রকমের চেষ্টা করা হয়েছিল।

সুরাইয়ার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের কেউ। সুরাইয়ার বাবা আরিফুল ইসলাম  বলেন, ‘যৌতুকের টাকা না পেয়ে সুরাইয়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচারের কারণেই গায়ে আগুন দিয়েছিল। আমি এর বিচার চাই। ’

তিনি বলেন, লাবণ্যর শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায়। লাবণ্যর গর্ভে সন্তান আসার পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে তার মাছ মাংস ডিম খাওয়া নিষেধ ছিল।

তিনি বলেন, ‘ওরা এত পাষাণ যে সুরাইয়ার মৃত্যুর খবরটা শ্বশুরবাড়িতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি। সুরাইয়ার কন্যাসন্তানকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মা আফরোজা ফাতেমা বলেন, ‘শরীরে আগুন দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে সুরাইয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাকে ফোন করে বলেছিল, ‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মা, আমার একটা কিছু করা দরকার। ’

হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সন্তানের খোঁজ নিয়েছে মেয়ে। এই বলেই আবেগতাড়িত হয়ে তিনি বলেন, ‘মা-বাবার হাত ধরে হাসপাতালের বিছানা ছেড়ে একটু উঠে দাঁড়াতে  চেয়েছে একবার। কিন্তু পারেনি। ’ 

আফরোজা ফাতেমা আরো বলেন, ‘তিনি ঢাকায় সেলাইয়ের কাজ করে কোনো রকমে টিকে আছেন। এর পরও শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের কষ্টের কথা শুনে নিজের কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন। মেয়ে আর সেই সময় দিল না বলেই গুমরে কেঁদে ওঠেন তিনি। ’



সাতদিনের সেরা