kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা প্রতিহত করুন

বিভিন্ন সংগঠনের আহবান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা প্রতিহত করুন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিল করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা প্রতিহত করার আহবান জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক পৃথক বিবৃতিতে কুমিল্লার নানুয়া দিঘির পারের একটি পূজামণ্ডপসহ দেশের অন্যত্র বেশ কয়েকটি মণ্ডপে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা। আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়েছে।

সিপিবি :  বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে বলেছেন, পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ অবমাননা করার  কাহিনি ছড়িয়ে যেভাবে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে, তা গভীর ষড়যন্ত্রমূলক। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নানা গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

বাসদ : পূজামণ্ডপে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সারা দেশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনো প্রকৃত ধর্মপ্রাণ হিন্দু অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ নিজেদের ধর্মীয় উৎসবে রাখতে পারে না, আর কোনো প্রকৃত মুসলমান নিজেদের ধর্মগ্রন্থ অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবে রাখতে পারে না। আবার কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষ এই কথা শুনেই যাচাই-বাছাই না করেই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের ওপর হামলে পড়তে পারে না। ফলে কুমিল্লার ঘটনা খুবই পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। একটি পক্ষ সারা দেশে সাম্প্রদায়িক হানাহানি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চাইছে। যার প্রমাণ হাজীগঞ্জ, হাতিয়া, বাঁশখালী, বান্দরবানের লামার ঘটনা।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি : বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এক বিবৃতিতে বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এই তাণ্ডব সংঘটিত হতে পেরেছে। সরকারকে অবশ্যই এর দায় গ্রহণ করতে হবে। তিনি সাম্প্রদায়িক হামলা, আক্রমণ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ জোরদার করার আহবান জানান।

বিএনপিএস : বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের (বিএনপিএস)  নির্বাহী পরিচালক, বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক ঘটনা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। কুমিল্লার ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। ওই ঘটনাকে ঘিরে অপপ্রচার চালিয়ে একটি মহল দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই ওই ঘটনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ তৎপরতা কাম্য। এ বিষয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সচেতন নাগরিকদেরও সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে কেউ উসকানি দিয়ে ঘটনাটিকে আরো বাড়িয়ে তুলতে না পারে।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ : কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মনে করি, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হুমকির মুখে ফেলতে কোনো কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শৈথিল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে এ ধরনের ঘটনার মধ্য দিয়ে।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী চক্রের সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক এবং সহিংস কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করার জন্য জোর দাবি জানানো হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত  করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

সুজন : নাগরিক সংগঠনটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘এখন পর্যন্ত অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। ফলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে। আমরা সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি কঠোর হাতে এসব অপতৎপরতা দমন করার আহবান জানাচ্ছি।’

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ : ঘটনার বিচার দাবিতে গতকাল বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক ‘মৌন প্রতিবাদ’ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষার্থী অংশ নেন। পূজামণ্ডপে হামলার প্রতিবাদে এ সময় শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় পরেন।



সাতদিনের সেরা