kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ট্রেনের নিচে মা, পাশেই কাঁদছিল শিশুটি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রেনের নিচে মা, পাশেই কাঁদছিল শিশুটি

একটানা ট্রেনের হুইসল শুনে কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছিল আশপাশের লোকজন। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর তারা দেখতে পায়, মাথা বিচ্ছিন্ন এক নারীর দেহ পড়ে আছে রেললাইনে। ২০ থেকে ২৫ গজ দূরে রেললাইনে বসা একটি মেয়েশিশু। কাঁদছে সে। শরীর রক্তে ভেজা। আশপাশের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।

গতকাল বুধবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তরপাড়া (কাটাপুল) এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম নাদিরা খাতুন (২০)। তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বড় বাট্টা গ্রামের শান্ত মিয়ার মেয়ে। তাঁর স্বামী জুয়েল মিয়া পোশাক শ্রমিক। নাদিরা স্বামীর সঙ্গে শ্রীপুর কেওয়া পূর্ব খণ্ড চেয়ারম্যান বাড়ি মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। শিশুটির নাম তানহা।

স্থানীয়রা জানান, শিশুটির বয়স আনুমানিক ১৪ মাস। তার বাঁ হাতে গভীর জখম রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

শ্রীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক হানিফ মিয়া জানান, গতকাল সকাল ৭টার দিকে একটি ট্রেন শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের হোম সিগন্যাল পার হওয়ার পর বারবার হুইসল বাজাচ্ছিল। ট্রেন চলে যাওয়ার পর দেখতে পান নীল রঙের বোরকা পরা এক নারীর মাথা বিচ্ছিন্ন দেহ রেললাইনে পড়ে আছে। ২০ থেকে ২৫ গজ উত্তরে বসে আছে একটি মেয়েশিশু। ভয়ে শিশুটি কাঁপছিল। শিশুটির শরীর ছিল রক্তে ভেজা।

অটোরিকশাচালক জয়নাল আবেদীন জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয়দের ধারণা, এটি সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, আত্মহত্যা হতে পারে। তবে এই ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার হারুন-অর রশীদ জানান, গতকাল সকাল ৭টা ৫ মিনিটে ময়মনসিংহগামী আন্ত নগর ট্রেন বলাকা এক্সপ্রেস শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। ট্রেনটি স্টেশনের উত্তরে হোম ও আউটার সিগন্যালের মাঝামাঝি কাটাপুল এলাকায় পৌঁছলে এক নারী তাঁর মেয়েশিশুকে রেললাইনে বসিয়ে নিজে রেললাইনে মাথা দেন। মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে ওই নারী মারা গেলেও শিশুটি বেঁচে যায়। ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

জয়দেবপুর রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (নম্বর-১৬৩) হয়েছে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি মাজাহারুল হক কালের কণ্ঠকে জানান, গাজীপুরের পিবিআই সদস্যরা ওই নারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্ত করেছেন। ওই নারীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে।



সাতদিনের সেরা