kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিশেষজ্ঞ মত

কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি ইতিবাচক বার্তা নয়

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

১৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি ইতিবাচক বার্তা নয়

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

 

করোনাকালে অনেক বেশি কোটি টাকার হিসাব বৃদ্ধির বিষয়টি অবশ্যই লক্ষণীয়। এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, বিশ্বব্যাপী বড় বড় যত ব্যবসায়ী রয়েছেন, তাঁদের করোনাকালেও আয় বেশ বেড়েছে। দেশেও যাঁরা ধনী, বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি রয়েছেন, তাঁদের আয় কিন্তু কমেনি, বেড়েছে। আবার কারো কারো আয় মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। এ সময়ে যাঁদের আয় বেড়েছে, সেটা মহামারি সংকটের কারণে ব্যবসা ও বিনিয়োগে ব্যবহার হয়নি। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ফলে তা ব্যাংকে আমানত হিসেবে ঢুকেছে।

আবার করোনার সময়ে অন্য সব খাতের মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধে ছাড় পেয়েছেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা। প্রণোদনার টাকাও এসব শ্রেণির কাছে বেশি গেছে। সেই টাকার একটা অংশ ব্যাংকে ঢুকে থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, মধ্যবিত্তের একটা অংশেরও করোনাকালে আয় বেড়েছে। কারণ ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা ভেবে

তাঁরা খরচ কমিয়ে সঞ্চয় করেছেন। অন্যদিকে করোনাকালে সাধারণ মানুষের আয় কিন্তু বাড়েনি। অনেকের বেতন কমে গেছে। চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই।

ফলে এদিক থেকে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি ইতিবাচক বার্তা দেয় না, বরং এটি সমাজে আয়বৈষম্য বাড়াচ্ছে। কারণ বড়লোকদের আয় যদি বেড়ে যায় বা ঠিক থাকে, আর গরিবদের আয় ঠিক না থেকে যদি আরো কমে যায়, তাহলে বৈষম্য বেড়ে যাবে। আবার ব্যাংকগুলোতে যে আমানত জমা পড়েছে, সেটা বিনিয়োগে যাচ্ছে কম। ছোট উদ্যোক্তারা ঋণ চেয়েও পাচ্ছেন না। তাই ব্যাংকগুলোর উচিত ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ বাড়ানো। যদি ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় ঋণ পান, তাহলে বৈষম্য কিছুটা হলেও কমবে।

লেখক : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক



সাতদিনের সেরা