kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নদীভাঙনে বিপর্যস্ত উপকূলের মানুষ

আজ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস

নিখিল ভদ্র   

১৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘আগেই দুইবার বাড়ি ভেঙেছে। এখন আবার ভাঙনের মুখে। এবার ভাঙলে কোথায় যাব বলতে পারছি না। বাপ-দাদার যে জমি ছিল; সবই গেছে কপোতাক্ষের পেটে।

বিজ্ঞাপন

’ কথাগুলো বলছিলেন খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের বিশ্বজিৎ বিশ্বাস।

কপোতাক্ষ নদের তীরে দাঁড়িয়ে সম্প্রতি কথা হচ্ছিল তাঁর মতো আরো অনেকের সঙ্গে। তাঁদের বেশির ভাগের বাড়ি দুই থেকে পাঁচবার পর্যন্ত ভেঙেছে। ফলে তাঁরা সবাই আছেন ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। দিবসটি উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের প্রতিশ্রুতি, জোরদার করি দুর্যোগ প্রস্তুতি’। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকেও দিবসটি উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

দুর্যোগকবলিত খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা ‘ফেইথ ইন অ্যাকশন’। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নৃপেণ বৈদ্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। জমিজমা, সম্পদ হারিয়ে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ’

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। উত্তর গোলার্ধের অ্যান্টার্কটিকা, সাইবেরিয়াসহ শীতপ্রধান অঞ্চলের সাগর ও পাহাড়ের বরফ গলে পানিতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে পানি স্তরের উচ্চতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এর প্রভাবে সাগর ও নদ-নদীর পানিও বাড়ছে।

নদীভাঙনের পাশাপাশি জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে প্রতিনিয়ত সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রতিবছরই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৪ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াশের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে গত বছরের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল, ২০০৯ সালে আইলা, ২০০৭ সালে সিডর উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। এসব ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।



সাতদিনের সেরা