kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

ফুলে ও অশ্রুতে নাট্যজন ইনামুল হককে বিদায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুলে ও অশ্রুতে নাট্যজন ইনামুল হককে বিদায়

একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, নাট্যকার, অধ্যাপক ড. ইনামুল হককে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল ও ভালোবাসার অশ্রুতে শেষবিদায় জানায় সর্বস্তরের মানুষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, নাট্যকার, অধ্যাপক ড. ইনামুল হককে ফুল ও ভালোবাসার অশ্রুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে শেষবিদায় জানিয়েছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বন্ধু, স্বজনদের অশ্রুসিক্ত স্মৃতিচারণায় ভারী হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পরিবেশ।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনামুল হকের মরদেহ আনা হলে কফিনে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষবিদায় জানায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শেষ শ্রদ্ধায় পরিবারের পক্ষে ইনামুল হকের দুই মেয়ে হৃদি হক ও প্রৈতি হক, তাঁদের জামাতা অভিনেতা লিটু আনাম ও সাজু খাদেম উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

শহীদ মিনারে ইনামুল হকের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি বলেন, ‘এ রকম একজন গুণী অভিনেতা ও বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে আমরা শোকাহত। এই শূন্যতা পূরণ হবে না। তিনি  মানুষের  হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি আদর্শ হয়ে থাকবেন।’

শ্রদ্ধা জানানো শেষে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘ইনামুল হক অত্যন্ত সজ্জন মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর বুয়েটে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। তাঁর মতো এমন একজন গুণী মানুষের হঠাৎ প্রস্থান জাতির জন্য বেদনার। তাঁর এই মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ইনামুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের একজন গর্বিত ছাত্র ছিলেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি নিজেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রেখেছিলেন। একজন অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবনে তিনি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি অমর হয়ে থাকবেন।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ইনামুল হক মানুষকে সব সময় আনন্দ দিয়ে থাকতেন। তিনি আমাদের হাসতে শিখিয়েছেন। তাঁর প্রস্থানে দুঃখের মধ্যে সামান্যটুকু আনন্দ কে দেবে, আমি জানি না। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। অনেক দিন তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

 

ইনামুল হকের মেয়ে হৃদি হক বলেন, ‘আমার বাবার ভাবনা, চিন্তা-চেতনায় ছিল দেশ ও দেশের মানুষ। তিনি আমাদের সবার নাট্যগুরু, নাট্যপ্রাণ মানুষ। সারা জীবন নাটক, থিয়েটার, শিল্পচর্চা, সেই গণআন্দোলনের সময় থেকে শেষ দিন পর্যন্ত বাবা অনুবাদের কাজ করে গেছেন।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান দলটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। এ ছাড়া নাট্যকার ও অভিনেতা আবুল হায়াত, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবেদ খান, সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়,  আওয়ামী  যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা পরিষদ,  বেতার-টেলিভিশন শিল্পী সংস্থা, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ, ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গাঙচিল, কণ্ঠশীলন, বাংলাদেশ আবৃত্তি শিল্পী সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।



সাতদিনের সেরা