kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ

প্রতারকচক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একমাত্র সন্তানের চাকরির আশায় নিজের শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে সাত লাখ টাকা দিয়েছিলেন আবদুর রহিম। সেনাবাহিনীতে নিয়োগপত্র নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে গিয়ে তাঁর ছেলে জানতে পারেন, নিয়োগপত্রটি নকল। এর মধ্যে উধাও কর্নেল পরিচয় দেওয়া প্রতারকও।

ভুক্তভোগী আবদুর রহিম বলেন, ‘নিয়োগপত্র হয়েছে জানিয়ে টাকা আনতে বলেছিল। আমি বাড়ি গিয়ে গরুবাছুর, ছাগল, ধান বিক্রি করে সাত লাখ টাকা এনে দিয়েছি। পরে আমি পুলিশের কাছে অভযোগ করি।’

শুধু আবদুর রহিম একা নন, অনেকেই এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এই চক্রের সদস্যরা শুধু সেনাবাহিনী নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকরিরও ভুয়া নিয়োগপত্র বানিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রটি শনাক্ত করে মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ব্যাপারে বিস্তারিত জানায় সিআইডি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবদুস সাত্তার (৫২), আলী হোসেন (৪০), শাহাদাত হোসেন (৫৫), মোস্তফা (৬২) ও জামাল হোসেন (৫০)।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, এসব প্রতারণার ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় সম্প্রতি দুটি মামলা হয়েছে। সেসব মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা নিজেদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সেনাবাহিনীতে কর্মরত দাবি করে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে সৈনিক পদে ও কয়েকজনকে ঢাকা সেনা সদর দপ্তরের অফিস সহকারী পদে ভুয়া নিয়োগপত্র দেন। নিয়োগপত্র নিয়ে প্রার্থীরা কর্মস্থলে যোগদানের জন্য হাজির হতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়োগপত্রগুলো ভুয়া বলে জানায়। এর মধ্যে প্রতারকচক্র মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপন করে।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদের ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়াসহ বিভিন্ন দপ্তরে তদবির বাণিজ্য করেন।

এ ছাড়া আসামিরা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আদেশের কপি জাল করেন বলে জানা গেছে। আসামিরা জনপ্রতি আট থেকে ১০ লাখ টাকা করে ১১ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।



সাতদিনের সেরা