kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

এজেন্সিগুলো তিন কারণে পাচ্ছে না ওমরাহর যাত্রী

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার ধাক্কা কাটিয়ে সৌদি সরকার কিছু শর্ত বেঁধে দিয়ে গত আগস্ট থেকে ওমরাহর অনুমতি দিয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের মানুষ ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব যাওয়া শুরু করেন। তবে বিশ্বের ৭০ হাজার মানুষকে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হলেও সেখানে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ কম।

মূলত তিন কারণে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহর যাত্রী পাচ্ছে না হজ এজেন্সিগুলো। সিনোফার্মের টিকাগ্রহীতাদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার শর্ত, করোনা টেস্ট, টিকার সনদ, মক্কা-মদিনায় প্রবেশে প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং হজ করতে খরচ বেড়ে যাওয়া।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন (হাব) চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওমরাহর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম প্রচুর সাড়া মিলবে। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা হলো। তেমন সাড়া পাচ্ছি না আমরা।’

তিনি বলেন, সৌদি সরকার সিনোফার্মের টিকাগ্রহীতাদের জন্য বুস্টার ডোজের শর্ত দিয়েছে। দেশের বেশির ভাগ মানুষ সিনোফার্মের টিকা নিয়েছে। এই শর্ত পূরণ করে ওমরাহ পালনে মানুষের মধ্যে তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। আবার করোনা-পরবর্তী সময়ে ওমরাহ করতে আগের তুলনায় খরচও বেশি লাগছে। আগে এক লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে ওমরাহ করা গেলেও এখন লাগছে দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে মানুষের হাতে বাড়তি টাকা নেই। ফলে ইচ্ছে থাকলেও করোনা-পরবর্তী সময়ে সে আগ্রহ কমে গেছে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সাল থেকে ওমরাহ পালন বন্ধ ছিল। বিদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে হজ পালনও। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় গত ১০ আগস্ট ওমরাহ পালনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সৌদি আরব। তবে তারা বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দেয়। এর মধ্যে ভিসা নিতে গিয়ে বিপত্তি ঘটে অনেকের। কারণ বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য চীনের সিনোফার্মের টিকার অনুমোদন দিলেও বুস্টার ডোজের শর্ত জুড়ে দেয়। এতে ভিসা পেতে তৈরি হয় বিপত্তি। এ ছাড়া করোনা-পরবর্তী কড়াকড়ির কারণেও অনেকে আগ্রহ হারান।

কর্ণফুলী ট্রাভেল এজেন্সি অ্যান্ড হজ কাফেলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইলিয়াস জাভেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার হজের খরচ যেমন বেশি, তেমনি কড়া শর্তও রয়েছে। ফলে সাধারণ যাত্রী যাঁরা ওমরাহ করতে চেয়েছিলেন তাঁরা পিছু হটেছেন।

তিনি বলেন, এখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ফ্লাইট ভাড়া বেশি। সৌদি আরবে মাত্র ৩০টি তারকা হোটেলে থাকা-খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক কক্ষে দুজনের বেশি থাকা যায় না। রান্না করে খাওয়ার সুযোগ নেই। পরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিতে হয়। আর তাওয়াফ করতেও কড়াকড়ি নিয়ম রয়েছে। এ কারণে এখন অনেকে ওমরাহ পালনে আগ্রহী হচ্ছেন না।



সাতদিনের সেরা