kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

ছিনতাইকারীর চাকুতে ‘ভয়’

মোবারক আজাদ   

৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছিনতাইকারীর চাকুতে ‘ভয়’

কেশব রায় পাপন (২৪)। ছিলেন রাজধানীর সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি এলিফ্যান্ট রোডের একটি কুরিয়ার সার্ভিসে করতেন খণ্ডকালীন চাকরি। গত মঙ্গলবার রাতে কর্মস্থল থেকে বাইসাইকেলে করে তেজগাঁওয়ের মনিপুরের বাসায় ফিরছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রাত ৯টার দিকে কারওয়ান বাজারের মেরিন হোটেলের সামনে যেতেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়। পরে পথচারীরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে গেল ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরে রিপন (১৭) নামে এক কিশোরের শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেয় ছিনতাইকারীরা। কয়েকজন কিশোর মিলে রিপনের ব্যবহূত স্মার্টফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই পড়ে থাকে তার নিথর দেহ। রিপন গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করত।

এভাবেই রাজধানীতে ঘটছে একের পর এক চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা। ছুরিকাঘাতে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা এসব অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ালেও দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা কমছে না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা সূত্রে জানা যায়, এ বছরের (জানুয়ারি-জুলাই) প্রথম সাত মাসে রাজধানীতে এক হাজার ৮৯৩টি চুরি-ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। সে অনুযায়ী গড়ে প্রতি মাসে ২৭০টি চুরি-ছিনতাইয়ের মামলা হচ্ছে। যেখানে ২০২০ সালে প্রতি মাসে ২৫৭টি মামলা হয়েছিল। সেই হিসাবে এ বছর চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকটাই বেড়েছে। তবে হয়রানির কথা ভেবে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন না বলেও জানা গেছে। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার তথ্য বলছে, ডিএমপির বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৫৮টি স্পট রয়েছে, যেখানে ছিনতাইকারীরা সক্রিয়।

এদিকে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি কঠোর বিধি-নিষেধ উঠে যাওয়ার পর রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্যে সর্বস্ব হারাচ্ছে মানুষ। তাদের বিশেষ টার্গেট থাকে গ্রাম থেকে আসা লোকজন। তাদের চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে লুটে নিচ্ছে সব কিছু। গত ১১ আগস্ট সরকার সব ধরনের বিধি-নিষেধ তুলে নিলে রাজধানীতে ফের দেখা দেয় যানজট। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

জানা যায়, গত ১১ আগস্টের পর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির হাতে হয়রানির শিকার হয়েছে এমন অন্তত ১০টি ঘটনা ঘটেছে।

মহানগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সব সময় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা যে ঘটছে না, এটা বলা যাবে না। তবে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। ’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন বলেন, ‘এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে সব থানার পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা