kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার হুমকির অভিযোগ

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিএসবি পুলিশ পরিচয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর বাসাবাড়ি ও ছাত্রাবাসে গিয়ে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কাটার ঘটনায় আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্মারকলিপি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তবে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর জোনের ডিএসবির এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, কিছু শিক্ষার্থীকে তাঁরা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না, তাঁদের পরিবার, মা-বাবার পেশা ইত্যাদি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জামায়াত-শিবির আন্দোলনে ঢুকে যেতে পারে বলেও তাঁদের সতর্ক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য রক্ষা করে কথা বলা হয়েছে; তাঁদের কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রুকাইয়া সুস্মিতা বলেন, ‘মহিলা পুলিশ ছাড়াই ডিএসবি পরিচয়ে গত সোমবার আমাদের বাসায় এসে আন্দোলন থেকে সরে যেতে আমাকে এবং আমার পরিবারকে হুমকি দেয়। ’ অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাদ বিন শফিক দ্বারিয়াপুরের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। সেখান থেকে তাঁকে এবং বিভিন্ন এলাকায় থাকা ছাত্রদের দ্বারিয়াপুরের বিসিক রোডে শাহ মখদুম ছাত্রাবাস-২-এ ডেকে নিয়ে আসে ডিএসবি পুলিশ। এই ছাত্রদের মধ্যে সাদ বিন শফিক ও হাসিবুর রহমান বলেন, ডিএসবি পুলিশের ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি দল তাঁদের আন্দোলন থেকে সরে আসতে হুমকি দেয়। তারা বলে, তাঁদের এই আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে। এটি ঘটলে এর দায় ছাত্রদের নিতে হবে।

উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন বিশ্বদ্যািলয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের নিরাপত্তার প্রশ্নে উপাচার্যের সঙ্গে পরামর্শ করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের ডিবি পুলিশের হয়রানির বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন তদন্ত কমিটির সদস্যসচিবের কাছে অসুস্থতার কথা বলে কমিটির সামনে হাজির হওয়ার বিষয়ে ১৪ দিনের সময় চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু আমরা তাঁকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে আরো তিন দিনের সময় দিয়েছি। এর আগে বুধবার পর্যন্ত তাঁকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগী ১৪ শিক্ষার্থীসহ ৫৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ’

অভিযুক্ত ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন বলেন, ‘আমি আবেদনটির কোনো জবাব পাইনি। ’



সাতদিনের সেরা