kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

নিষিদ্ধ যানের প্রকাশ্য ব্যবসা

বগুড়া শহরে অটোরিকশার অর্ধশতাধিক দোকান

লিমন বাসার, বগুড়া   

৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিষিদ্ধ যানের প্রকাশ্য ব্যবসা

বগুড়া শহরের সূত্রাপুরের গোহাইল সড়কে আমদানি নিষিদ্ধ অটোরিকশার শোরুম। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আমদানি করা নিষিদ্ধ। অথচ এই অবৈধ অটোরিকশা বেচার বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে বগুড়ায়। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন বেচা হচ্ছে শতাধিক রিকশা। নিষিদ্ধ যানের প্রকাশ্য ব্যবসা চললেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

বগুড়া শহরের গোহাইল সড়কের আব্দুল মতিন আগে মেশিনারি পার্টসের ব্যবসা করতেন। এখন তিনি অটোরিকশার দোকান খুলেছেন। একটি অটোরিকশা বেচলে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ হয়, দিনে গড়ে তিন-চারটি বেচেন তিনি। এই করে দৈনিক লাভ আসে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘অন্য ব্যবসা কেন করব? একটু ঝুঁকি থাকলেও এই ব্যবসা ভালো। ’

এক বছর আগে শহরের গোহাইল সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সাতটি দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে জিহাদ অটো সেন্টার, বিকল্প বাইক সেন্টার, শাহীন অটো হাউস, নিউ সেবা মোটরস, অটো হাউস, অটো পয়েন্ট ও বগুড়া অটো সেন্টার। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা নাজের নেতৃত্বে এই অভিযান চলাকালে বলা হয়েছিল এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কিন্তু গত এক বছরে আর কোনো অভিযান হয়নি। সিলগালা করে রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোসহ এখন অর্ধশতাধিক দোকানে অটোরিকশা বেচা হয়।

আছে অবৈধ গ্যারেজ

সম্প্রতি জেলা পুলিশের তৈরি জরিপে দেখা গেছে, সদর থানার আওতাধীন পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে আটটি। এর মধ্যে উপশহর ফাঁড়ি এলাকায় অবৈধ অটোরিকশা গ্যারেজ রয়েছে ২৭টি, সিলিমপুরে ১১টি, সদরে ১৪টি, কৈগাড়িতে ৩০টি, ফুলবাড়ীতে ৩৮টি, স্টেডিয়ামে ২০টি, বনানীতে ১৩টি এবং নারুলী ফাঁড়ি এলাকায় অটোরিকশা গ্যারেজ রয়েছে ৪১টি। বগুড়া বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মন্নাফ জানান, পিকআওয়ারে এসব অটোরিকশা চার্জিংয়ের কারণে শহরে লোডশেডিং বাড়ে।

চালক কারা?

বগুড়া শহরের একাধিক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের বাড়ি গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। বগুড়া শহরে এসে কাজ না পেয়ে রিকশা চালান। চালক মনির জানান, তিনি সকালের ট্রেনে লালমনিরহাট থেকে বগুড়ায় আসেন। সারা দিন রিকশা চালিয়ে ৮০০ টাকা আয় হয়। মহাজনকে ৩০০ টাকা দিয়ে বাকি ৫০০ টাকা নিয়ে রাতে বাড়ি ফেরেন।

আকবর জানান, তাঁর বাড়ি সান্তাহারে। আগে তিনি হোটেল কর্মচারী ছিলেন। বেতন পেতেন আড়াই হাজার টাকা। এখন রিকশা চালান। তাতে মাসে আয় হয় ১২ হাজার টাকা। আরো ৮-১০ রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা কেউই প্রকৃত মালিক নন। মালিক মহাজন। পুলিশি ঝামেলায় পড়লে রিকশা ছাড়িয়ে নেওয়ার দায়িত্বও মহাজনের।

লাভের মধু মহাজনের পকেটে

বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী পাইকপাড়ার নিরাপদ গ্যারেজের মালিক আনোয়ার হোসেন। ৫০টি অটোরিকশা ৩০০ টাকা হিসেবে দৈনিক ভাড়া পান ১৫ হাজার টাকা। মাসে দাঁড়ায় চার লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পাশেই দুর্গাহাটার মায়াবী গ্যারেজের মালিক সাইদুল ইসলাম। তিনটি দিয়ে শুরু করে আজ ৫৬টি রিকশার মালিক। কিভাবে সম্ভব? জানতে চাইলে সাইদুল বলেন, ‘হামরা পৌরসভার কাছে আবেদন করে লাইসেন্স পাই না। নম্বর না প্যালে কি ব্যবসা বসে থাকপি? সে জন্যে অবৈধ দিয়েই চলিচ্চে। পৌরসভা কিংবা পুলিশ মাঝেমধ্যে রিকশা আটক্যালে কিছু খরচাপাতি হয়। ’ একই কথা শোনান শাকপালার আরেক মহাজন আব্দুল গফুর আকন্দ। তাঁর অটোরিকশার সংখ্যা ৩৮টি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘শহরের বিশেষ বিশেষ এলাকায় চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ জারি করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে গেছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টির দ্রুত সমাধান না করলে পরিস্থিতি আরো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ’



সাতদিনের সেরা