kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নৌকাবাইচ ও মেলায় মুখরিত নড়াইলের চিত্রা নদীর পার

নড়াইল প্রতিনিধি   

৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৌকাবাইচ ও মেলায় মুখরিত নড়াইলের চিত্রা নদীর পার

আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস উপলক্ষে নড়াইলের চিত্রা নদীতে গতকাল আয়োজন করা হয় এস এম সুলতান নৌকাবাইচ। ছবি : কালের কণ্ঠ

নদীর দুই পার, বাড়ির ছাদ, গাছের ডালসহ বাদ যায়নি একটি জায়গাও। নড়াইলের চিত্রা নদীর পারে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে এমনভাবেই ভিড় করেছিল নড়াইলবাসী। আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা  হয় এস এম  সুলতান নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। গতকাল শনিবার দুপুরে আয়োজন করা হয় এই প্রতিযোগিতার।

বিজ্ঞাপন

মূলত নড়াইলের গর্ব চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর ১০ আগস্ট নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবার করোনা মহামারির কারণে তা পিছিয়ে ২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবসে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ বাইচ দেখতে এবারও আশপাশের জেলাসহ স্থানীয় লোকজনের পদভারে মুখরিত চিত্রা নদীর দুই পার।

গতকাল নড়াইলের পুরাতন ফেরিঘাটে এ নৌকাবাইচের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহাবুব আলী। এবারের নৌকাবাইচে যশোর, খুলনা, মাগুরা, গোপালগঞ্জ, পাবনা ও নড়াইলের মোট ১৫টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। নৌকাগুলোকে নড়াইল পুরাতন ফেরিঘাটের রাসেল সেতু থেকে শুরু করে মাছিমদিয়ার এস এম সুলতান সেতু পর্যন্ত যেতে হয়। কালাই ও টালাই নামের দুটি গ্রুপে এ প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এবার নারীদের একটি নৌকাও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। মোট পাঁচটি টানে বাইচ শেষ হয়।

এদিকে নৌকাবাইচ ঘিরে জমিদারবাড়ীর বাঁধাঘাট, চরের ঘাট আর পঙ্কবিলা ঘাটে মেলা বসে। মেলায় নানা ধরনের নাগরদোলা, চরকি নিয়ে পসরা বসেছিল। এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় কালাই গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেন মাগুরার আকরামের আল্লার দান নৌকাটি। একই গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে পাবনার হাফিজুর রহমানের শাপলা এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে মাগুরার আতর আলীর মায়ের দোয়া।

এদিকে টালাই গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেছে খুলনার আলকাচ শেখের সোনার বাংলা, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে খুলনার বাইজল শিকদারের রকেট এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে গোপালগঞ্জের নিকুঞ্জ কুমারের মা শীতলা। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার মোটরসাইকেল, দ্বিতীয় পুরস্কার ফ্রিজ ও তৃতীয় পুরস্কার টেলিভিশন। এ ছাড়া অংশগ্রহকারীদের জন্য ছিল সৌজন্য পুরস্কার।

আয়োজকরা জানান, সুলতান সব সময় গ্রামীণ বাংলার সংস্কৃতিকে লালনপালন করতেন। আর তাঁর সেই আজীবন লালিত স্বপ্নকে ধরে রাখতেই প্রতিবছর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

এবারের আয়োজনে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-০২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তজা, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মিকু প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা