kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

করোনার ক্ষত

শিল্প খাতে রং ফেরাতে ১০ বছরের কর্মছক

ফারজানা লাবনী   

৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিল্প খাতে রং ফেরাতে ১০ বছরের কর্মছক

করোনার ক্ষত কাটিয়ে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন বাড়াতে ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল প্রডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও)। এ ক্ষেত্রে চামড়াশিল্প এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের লোকসান কাটাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা চিহ্নিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মপরিকল্পনা নিতে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কর্মপরিকল্পনায় নতুন আরো কিছু যোগ করার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না সেটির সুপারিশ নিতে নথিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রতি তিন মাস পর পর শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে হালনাগাদ করা হবে কর্মপরিকল্পনা। দেশের শিল্প, সেবা, কৃষিসহ সব খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর থেকে ১০ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হবে।

কর্মপরিকল্পনায় কৃষি বা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, প্লাস্টিকশিল্প, তৈরি পোশাক শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, পর্যটনশিল্প, হিমায়িত মৎস্যশিল্প, হোম টেক্সটাইলশিল্প, আইসিটি বা সফটওয়্যারশিল্প, পাট ও পাটজাত শিল্প, ওষুধশিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প, বাইসাইকেলশিল্প, পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, বেসিক কেমিক্যাল রং রাসায়নিক দ্রব্য, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট শিল্প ও রেডিং ফার্মাসিউটিক্যালশিল্প, ভেষজ ওষুধশিল্প, পলিমার উৎপাদন শিল্প, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, অটোমোবাইল, হস্ত ও কারু শিল্প, চা-শিল্প, সিরামিকস, টিস্যু গ্রাফটিং ও বায়োপ্রযুক্তি, জুয়েলারি, খেলনা, কনটেইনার সার্ভিস, ওয়্যারহাউস, নব উদ্ভাবিত ও আমদানি বিকল্প শিল্প, প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের উৎপাদন বাড়াতে প্রথম ধাপে কাজ করা হবে। এসব খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে এনপিও বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি ও জনবল একই থাকবে। তবে সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কারখানা খোলা থেকে বন্ধ করা পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে বলা হয়েছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জড়িত প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান, কেমিস্টসহ সবার দক্ষতা বাড়িয়ে অপচয় রোধের পাশাপাশি উপজাত পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এনপিও আয়োজিত কর্মশালা-পরবর্তী ফলোআপ অব্যাহত রাখা হবে। কর্মপরিকল্পনায় চামড়া খাতে কাঁচামালের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত, কারখানার পরিবেশের মানদণ্ড বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে বলা হয়েছে।  

কর্মপরিকল্পনায় রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এসব কারখানায় মেটেরিয়াল ফ্লো কস্ট অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতি প্রয়োগ করে মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাজশাহী, নাটোর ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাপানভিত্তিক এশিয়ান প্রডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশনের (এপিও) কারিগরি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদলকে প্রথম পর্যায়ের সমীক্ষা চালাতে বলা হবে। কর্মপরিকল্পনায় চার ধাপে এসব পদ্ধতি বাস্তবায়ন করে চিনিকলের উপজাত পুনরায় ব্যবহার, উৎপাদন খরচ সাশ্রয় এবং উৎপাদন বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে বর্তমানে চালু আছে এমন অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলেও এ পদ্ধতি অনুসরণ করে উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ আছে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কারখানাগুলোতে উৎপাদনশীলতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ সময় তৃণমূল পর্যায়ে কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উৎপাদনশীলতা বিষয়ে সচেতন করতে এনপিও কাজ করবে। কর্মপরিকল্পনায় অভ্যন্তরীণ সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত, ক্যাপিটাল পণ্য শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে একটি দক্ষ ব্যাকওয়ার্ড ও ফরোয়ার্ড লিংকেজ প্রতিষ্ঠা, গবেষণার মাধ্যমে শিল্প খাতে দেশীয় প্রযুক্তির প্রসার, বেসরকারি খাতের দক্ষতা বাড়াতে ক্ষুদ্র, কুটির ও গ্রামীণ শিল্পের বিকাশ, স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলে রপ্তানিমুখী ও আমদানি বিকল্প শিল্পের প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘করোনাকালে শিল্প খাতের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাঁচামালের পরিমাণ না বাড়িয়ে, একই যন্ত্রপাতি ও জনবল রেখে শুধু উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা