kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

জেন্ডার বাজেট মূল্যায়ন করতে হবে

সানেম-মহিলা পরিষদ ওয়েবিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় নারীরা পিছিয়ে আছে। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে তারা। এসব ক্ষেত্রে নারীর অবস্থানের উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। গত এক দশকে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়েনি। দেশের ৮০ শতাংশ পুরুষ শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ করলেও নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ৩৬ শতাংশ। শিক্ষাগ্রহণ, কাজ বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেনি পুরুষদের ১০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে নারীর হার ৪৭ শতাংশ।

গতকাল সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশের জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট : বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা এসব তথ্য জানান।

নারীর অবস্থানের উন্নয়নে ড. বিদিশা সুপারিশ করেন—পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনায় জেন্ডার বাজেট কতটা প্রতিফলিত হয়েছে, তার মূল্যায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে জোর দিতে হবে গুণগত মান নিশ্চিতের প্রচেষ্টায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার সংবেদনশীলতা নির্ণয়ের জন্য একটি আলাদা সেল থাকা প্রয়োজন।

সানেমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ইশরাত শারমীনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সেলিমা আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরমিন্দ নিলোর্মী এবং ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের অপারেশনস লিড সামাঞ্জার চৌধুরী।

ফওজিয়া মোসলেম বলেন, শুধু নারীর কর্মসংস্থান নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে না; নারীর উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে জাতীয় বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

সেলিম রায়হান বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেটিংয়ের বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর কতটুকু প্রতিফলন ঘটছে, কোন কোন বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সামাজিক আন্দোলনগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জেন্ডার বাজেটিং কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

সেলিমা আহমেদ বলেন, দুর্নীতির কারণে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। বাজেট বরাদ্দ থাকলেও তৃণমূলের নারীদের তা কতটা প্রভাবিত করে তা মূল্যায়ন করতে হবে।

সামাঞ্জার চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা বাড়াতে হবে। তবেই নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব। শহরে বসবাসরত নারীদের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের চাহিদার প্রতিফলনও বাজেটে ঘটাতে হবে।

শরমিন্দ নিলোর্মী বলেন, সরকারের যে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ম্যানুয়াল আছে, সরকারি কর্মকর্তারা এ সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত নন; যে কারণে তাঁরা তা ব্যবহার করেন না। নীতি তৈরির পাশাপাশি এর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।



সাতদিনের সেরা