kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কারামুক্ত হয়ে মাকে কদমবুসি করলেন ঝুমন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কারামুক্ত হয়ে মাকে কদমবুসি করলেন ঝুমন

কালো শ্যুট ও প্যান্ট পরনে। সাদা কেডস পায়ে। রঙিন পেপারে মোড়ানো একটি বই হাতে। সন্ধ্যার অন্ধকার তখন হাওরঘেরা সুনামগঞ্জ কারাগারকে ছেয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে। এই সময় হাসি হাসি মুখে বের হন হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে কারাবন্দি হওয়া ঝুমন দাস আপন। তাঁর মা নিভা রানী দাস এগিয়ে যান। ঝুমন দাঁড়ানো থেকে হাঁটু গেড়ে বসে মায়ের পায়ে ধরে কদমবুসি করেন। মা জড়িয়ে ধরেন। চুমা খান কপালে।

এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত লোকজন আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে। ঝুমন দাস প্রায় ২০০ দিন পর কারামুক্তি হয়ে সাংবাদিকসহ যাঁরা তাঁর মুক্তির জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর মা নিভা রানী দাস এ সময় মামলা থেকে নিঃশর্ত মুক্তি ও নিরাপত্তার দাবি জানান।

ফেসবুকে হেফাজতের নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ছয় মাসের অধিক সুনামগঞ্জ কারাগারে কারাবন্দি ছিলেন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের যুবক ঝুমন। গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সমাবেশ করেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। ওই সমাবেশে সাম্প্রদায়িক ও ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দেন তিনিসহ অন্যান্য হেফাজত নেতারা। এ নিয়ে ঝুমন ফেসবুকে মামুনুল হকের সমালোচনা করে একটি স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মামুনুল হক অনুসারীরা বিক্ষোভ করলে ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ১৭ মার্চ দিরাই ও শাল্লার ছয়টি গ্রামের হেফাজত অনুসারীরা মসজিদের মাইকে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালায়। তারা ৮৮টি বাড়িঘর, পাঁচটি মন্দির ভাঙচুরসহ লুটপাটও করে। এ ঘটনায় দেশ-বিদেশে তুমুল সমালোচনা হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গ্রামের নজর দেয় এবং পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শীর্ষ নেতারা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নোওয়াগাঁও গ্রামে এসে গ্রামবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানায়।



সাতদিনের সেরা