kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে টিকা পেয়ে গেলাম’

জহিরুল ইসলাম ও মোবারক আজাদ   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে টিকা পেয়ে গেলাম’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে পরিচালিত বিশেষ টিকা কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে রাজধানীবাসী। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই গণটিকা কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তবে তথ্যবিভ্রাটের কারণে উত্তর সিটি করপোরেশনের কিছু কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। এই করপোরেশনে দুপুরে টিকা দেওয়া শুরু হলেও অনেক কেন্দ্রে টিকা নিতে ভিড় করেছিলেন লোকজন। পরে অনেকে টিকা না নিয়েই ফিরে গেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের গণটিকা কেন্দ্র করা হয়েছে শহীদনগর এলাকার বউবাজার পানির পাম্পের লাগোয়া একটি ভবনে। সকাল ৯টার আগ থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। টিকা নিতে আসা শহীদনগর এলাকার রেনেসাঁ নামের এক নারী বলেন, ‘আগে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। কিন্তু মেসেজ আসছিল না। এখন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে টিকা পেয়ে গেলাম।’ স্থানীয় কাউন্সিলর মোসাদ্দেক হোসেন জাহিদ বলেন, ‘আজকে সাড়ে তিন শ টিকা দেওয়া হবে। আগামীকালও একই পরিমাণ টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার জন্মদিনে ওয়ার্ডবাসীর জন্য এটি অনেক বড় পাওয়া।’

বিকেল ৩টায় উত্তর সিটি করপোরেশনের ভাটারা খিলবাড়ীর টেক এলাকার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের টিকাদানকেন্দ্র থেকে টিকা নিয়ে লোকজনকে স্বস্তিতে ফিরতে দেখা গেছে। দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই পর্যায়ক্রমে টিকা নিয়েছেন। টিকা নিতে আসা ব্যক্তিদের সহযোগিতার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকও ছিলেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকে নির্দেশনা দিয়েছেন কিছুক্ষণ পর পরই।

বারিধারা নূরেরচালা এলাকার আম্বিয়া খাতুন (৫৫) লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে টিকা দিব মাইকে শুনে আসছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আশা করি দিতে পারব।’ উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব নেছার আহমেদ রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, যাঁরা টিকা নিতে এসেছেন তাঁদের কাছ থেকে তেমন কোনো অভিযোগ আসেনি। আগামীকাল টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। এই কেন্দ্রে দুপুরে টিকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, মানুষের কর্মক্ষেত্রের কথা বিবেচনা করেই দুপুর থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে এবং রাত পর্যন্ত টিকাগ্রহীতারা টিকা নিতে পারবেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাড্ডা আলাতুন্নেছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (বালিকা) কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নারী মৈত্রী নামের একটি প্রতিষ্ঠান। নারী মৈত্রীর এক কর্মী জানান, কোনো ধরনের আগে-পরে করা ছাড়া সিরিয়াল অনুযায়ী টিকা দেওয়া হচ্ছে। কাউন্সিলরের লোকজনও কোনো ঝামেলা করছে না। কেন্দ্রের ভেতরে নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে এবং অনেকে চেয়ারে বসে সিরিয়াল ধরে অপেক্ষা করছিলেন। লাইনের সবাইকেই টিকা দেওয়া হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পারভীন আক্তার নামের দক্ষিণ বাড্ডার এক টিকাগ্রহীতা জানান, এক ঘণ্টা ধরে সিরিয়ালে থাকলেও বসতে পারায় তেমন ভোগান্তি হচ্ছে না। আর কয়েকজন পরই তাঁর সিরিয়াল।

তবে এই কেন্দ্রে নারীর তুলনায় পুরুষের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। পুরুষদের বুথে বসা শাহেদা রহমান নামের এক নার্স বলেন, ‘আমরা ১৪০ জনকে দুই-আড়াই ঘণ্টায় টিকা দিয়েছি। আরো ৪০ জন টিকা ফরম জমা দিয়েছেন।’ অন্যদিকে নারীদের বুথের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও একই সময়ে ৮৯ জনকে টিকা দেওয়া হয়। স্থানীয় কাউন্সিলর মাসুম গনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উন্নয়নের নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশ ও জাতির ভরসার স্থল; প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে এমন একটি আয়োজনের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। এ জন্য মেয়র মহাদয়কেও ধন্যবাদ জানাই।’

তবে গণটিকা কর্মসূচির সময় নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন উত্তর সিটির কিছু এলাকার বাসিন্দা। প্রথম ধাপের গণটিকা কর্মসূচির অভিজ্ঞতায় গতকাল ভোর থেকেই টিকা নিতে কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন অনেকে। কিন্তু সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ডিএনসিসি এলাকায় দুপুর আড়াইটা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। এ অবস্থায় লাইনে দাঁড়িয়ে বিপাকে পড়েন টিকাপ্রত্যাশীরা। গতকাল সকালে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা কার্ড হাতে নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু ততক্ষণেও টিকা দেওয়া শুরু হয়নি।

এ সময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ থেকে দুপুর আড়াইটা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে মাইকিং করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া সকাল থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে লোকজনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকেই আগে থেকে সময় না জেনে এসে অপেক্ষা করছিলেন, তাঁরা জানতেন না কখন টিকা দেওয়া শুরু হবে। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের জান্নাত একাডেমি হাই স্কুলেও একই ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন। যদিও স্থানীয় কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, এ বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, ‘বাচ্চাদের স্কুলের কথা চিন্তা করেই আমরা আড়াইটা থেকে টিকা কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু মানুষ মনে করছে টিকা মানেই হচ্ছে সকাল ৯টা। পরে যাতে ভোগান্তি না হয় সে কারণে যেসব কেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি বেশি সেসব কেন্দ্রে টিকাদান শুরু করে দেওয়া হয়।’



সাতদিনের সেরা