kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

চুয়াডাঙ্গা

আরেক কন্যা সাহসিকা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আরেক কন্যা সাহসিকা

বাবা চা দোকানি, মা মুড়ির কারখানায় কাজ করেন। দরিদ্র হওয়ায় বিয়ে ঠিক করেছে পরিবার। নিজের বিয়ে ঠেকাতে গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হাজির দশম শ্রেণির ছাত্রী। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আমার বয়স ১৬। সম্প্রতি আমার মাসহ খালা ও মামা আমার বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। যার জন্য আমি লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে পারছি না। আমার পড়াশোনার জন্য আমার মা এক বছর আগে আমাকে উৎসাহ দিতেন, এখন তিনি বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যস্ত। অভাবের কারণে বিয়ে দেওয়াটাই সমাধান নয়। বরং বাল্যবিয়ের কারণে অনেক মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে পড়তে হয়।’

থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে এ রকম আবেদন লিখে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকালেন চুয়াডাঙ্গার দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই স্কুলছাত্রী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় গিয়ে নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করার জন্য লিখিতভাবে আবেদন করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার অভিভাবককে বোঝালে তাঁরা বিয়ে বন্ধ রেখে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন।

মেয়েটির অভিভাবকের ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা জানান, ওই মেয়েটি ঢাকার একটি স্কুলে পড়ত। ২০২০ সালে সে চুয়াডাঙ্গায় এসে আমাদের স্কুলে ভর্তি হয়। এরপর করোনার কারণে ক্লাস হয়নি, কোনো পরীক্ষাও হয়নি।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, ওই মেয়েটির বাবা একজন চা দোকানি। মা একটি মুড়ি কারখানায় কাজ করেন। পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় তারা মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

নাবালিকা মেয়েটির উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি আরো জানান, সম্প্রতি পুলিশি হস্তক্ষেপে একই এলাকায় এক নাবালিকা মেয়ের বিয়ে বন্ধ করা হয়।

এতে মেয়েটি অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের বিয়ে বন্ধ করার জন্য থানায় আসে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি জানান, চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী গতকাল সকালে থানায় এসে তার বিয়ে বন্ধের জন্য লিখিতভাবে জানায়।

ওই ছাত্রী জানায় যে কিছুদিন ধরে তার মা ও খালা তার বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন। বিয়ের জন্য পাত্রও ঠিক করে ফেলা হয়েছে, কিন্তু বিয়ে না করে মেয়েটি লেখাপড়া করবে বলে পুলিশকে জানায়। পরে সদর থানা পুলিশের একটি টিম মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে তার অভিভাবককে বাল্যবিয়ে আইনত অপরাধ এবং তার কুফল সম্পর্কে বোঝায়।

পরে মেয়েটির অভিভাবক মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। সেই সঙ্গে মেয়ের লেখাপড়া অব্যাহত রাখার কথা জানান।



সাতদিনের সেরা