kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তাবেলা সিজার হত্যা মামলা

ছয় বছরেও শেষ হয়নি বিচার

মাসুদ রানা   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় বছরেও শেষ হয়নি বিচার

ছয় বছর আগে আজকের এই দিনে ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজারকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের পর এক বছরের মাথায় এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। তবে গত ছয় বছরে আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি। পাঁচ বছর ধরে সাক্ষ্যগ্রহণেই আটকে আছে বিচারকাজ।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) তাপস কুমার পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে এ মামলার বিচারকাজ পিছিয়ে গেছে। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তার জেরার জন্য আগামী ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য আছে। তাঁর জেরা শেষ হলে মামলার বাদী ও শেষ তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। তাঁদের সাক্ষ্য নেওয়ার মধ্য দিয়েই শেষ হবে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব। আশা করছি শিগগিরই এই মামলার বিচারকাজ শেষ হবে।’

এই মামলার আসামিরা হলেন কাইয়ুম কমিশনার, তাঁর ভাই আবদুল মতিন, তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল ওরফে শ্যুটার রুবেল, রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কি রাসেল, মিনহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ভাগ্নে রাসেল, শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরিফ ও মো. সোহেল ওরফে ভাঙ্গারি সোহেল। আসামিদের মধ্যে কাইয়ুম কমিশনার ও ভাঙ্গারি সোহেল এখনো পলাতক। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে আবদুল মতিন ছাড়া অন্য চার আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মতিন জামিনে আছেন।

২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশান-২-এর ৯০ নম্বর সড়কে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসিওবিডির কর্মকর্তা তাবেলা সিজার। ওই দিনই তাঁর সহযোগী আইসিসিওর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ হেলেন ভেন ডার বিক বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ২২ জুন ডিবি পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমসহ (কাইয়ুম কমিশনার) সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল একজন শ্বেতাঙ্গকে হত্যা করে দেশ-বিদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই পরিকল্পনা করা হয়।

২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার মধ্য দিয়ে তাবেলা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। একই বছরের ১১ নভেম্বর শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে বিচারাধীন। সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর মামলাটির তারিখ ধার্য ছিল। ওই দিন মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এই পর্যন্ত মামলাটিতে ৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জনের জবানবন্দি ও ৩৯ জনের জেরা শেষ হয়েছে।



সাতদিনের সেরা