kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

যুবলীগ বিভক্ত তিন ভাগে, ছাত্রলীগ দুই

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ছিল তিন মাস। ওই সময়ের মধ্যে তৃণমূলের সম্মেলন করার পর মহানগর কমিটির সম্মেলন করার কথা থাকলেও আহ্বায়ক কমিটি এরই মধ্যে আট বছরের বেশি সময় পার করেছে। কিন্তু তৃণমূল ও নগর কমিটির সম্মেলন করতে পারেনি।

একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের এক বছরের কমিটিও প্রায় আট বছর পার করেছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ২৯১ সদস্যের মহানগর ছাত্রলীগের কমিটির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের বর্তমানে ছাত্রত্ব নেই। এক তৃতীয়াংশের বেশি বিবাহিত। ঠিকাদারিসহ নানা ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত তাঁরা। আর কমিটির বেশির ভাগ সদস্য নিষ্ক্রিয়।

২০১৩ সালে এ দুই কমিটির পর কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের কমিটি দেওয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ তৃণমূলের পাশাপাশি নগর কমিটির সম্মেলনেরও উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে তৃণমূলের সম্মেলন শুরুর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নিজেদের পাশাপাশি তাদের আওতাধীন সংগঠনের ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলনের উদ্যোগ নিলেও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন মহানগর ছাত্রলীগ এবং সহযোগী সংগঠন মহানগর যুবলীগের সম্মেলন কখন হবে? মেয়াদোত্তীর্ণ এই দুই কমিটি এবং নগরীর সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর সম্মেলন কবে হবে, তাও জানেন না নেতারা।

এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ দুই ভাগে এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

মহানগর যুবলীগের ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির মধ্যে একজন মারা গেছেন। আহ্বায়ক কমিটির তিন ভাগের মধ্যে রয়েছে আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ। ফরিদ মাহমুদসহ চার যুগ্ম আহ্বায়কের নেতৃত্বে আরেকটি পক্ষ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুল ফেরদৌস মান্নান ও নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাসান মুরাদ বিপ্লবের নেতৃত্বাধীন আরেক পক্ষ।

নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরের নেতৃত্বে একটি অংশ এবং সহসভাপতি রেজাউল আলম রনি ও মিথুন মল্লিকের নেতৃত্বে আরেকটি পক্ষ।

নগর যুবলীগ ও নগর ছাত্রলীগের কমিটির এসব পক্ষের বাইরেও আরো বিভক্তি রয়েছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের কলেজ ইউনিটগুলোতেও পাল্টাপাল্টি কমিটি রয়েছে। একইভাবে ওয়ার্ড ও থানা কমিটিতেও যুবলীগের বিভক্তি রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা জানান, প্রায় আট বছর ধরে যুবলীগ এবং সাড়ে ছয় বছর ধরে ছাত্রলীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। নগর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই কমিটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিভক্তির প্রভাব তৃণমূলেও পড়েছে। সম্মেলন না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা রয়েছে।

সম্মেলন কবে হবে—জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু কালের কণ্ঠকে বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় বর্ধিত সভা চলছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরেও বর্ধিত সভা হবে। তবে এখনো সময় নির্ধারণ হয়নি। নগর সম্মেলন করার জন্য এখনো কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসেনি। বর্ধিত সভা হলে সেখানে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে নগর সম্মেলন করতে পারব। এরই মধ্যে আমরা ১৫টি সাংগঠনিক থানা কমিটির মধ্যে ১১টিতে কমিটি অনুমোদন দিয়েছি। দুটি কলেজ ছাড়া অন্য সব কলেজ ইউনিটেও কমিটি দেওয়া হয়েছে।’

মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি রেজাউল আলম রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় গত সাত বছরে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসেনি। সাত বছরের বেশি সময় ধরে কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এ কমিটির বেশির ভাগ সদস্য বিবাহিত, ছাত্রত্ব নেই। তাদের দিয়ে সংগঠন কিভাবে চলবে! আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি নগর ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে সম্মেলনের মাধ্যমে নগর কমিটি গঠন করার।’



সাতদিনের সেরা