kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

পাঠ্য বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভুল

এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য বইয়ে থাকা ভুলের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১০ নভেম্বর তাঁকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

শুনানিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকার সময় পাঠ্য বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত ভুল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাইকোর্ট। এ সময় আদালত বলেছেন, পাঠ্য বইয়ে এত ভুল থাকা দুর্ভাগ্যজনক। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আলমগীর আলমের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ এ আদেশ দিয়েছেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আলী মুস্তফা খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। 

রুলে পাঠ্য বইয়ে থাকা ভুল সংশোধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষাসচিব, এনসিটিবির চেয়ারম্যান, সদস্য (কারিকুলাম), সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, সপ্তম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ১০ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে—১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ‘এই নির্বাচন ছিল শুধু পূর্ব পাকিস্তানের।’ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের সব প্রদেশে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়েছিল। ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে শিরোনাম—মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি : ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এক সাহসী, ত্যাগী ও দূরদর্শী নেতার ‘আবির্ভাব’ হয়। অথচ সত্য এই যে বঙ্গবন্ধু হঠাৎ কোনো ‘আবির্ভূত’ নেতা নন। তিনি তিলে তিলে বাঙালি জাতির নেতা হয়ে উঠেছেন।

রিটে আরো বলা হয়, অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ১৩ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘মাইল’-এর স্থলে ‘কিলোমিটার’ হবে। নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ২ থেকে ৯ নম্বর পৃষ্ঠার বিভিন্ন জায়গায় ‘শেখ মুজিব’ লেখা হয়েছে। অথচ বর্তমানে সব ক্ষেত্রে ‘বঙ্গবন্ধু’ লিখতে হবে। ২১ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি’-এর স্থলে ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি’ হবে। ২৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘প্রেসিডেন্ট ভবন’-এর স্থলে ‘বঙ্গভবন’ হবে।



সাতদিনের সেরা