kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী

‘বঙ্গবন্ধু-মহাত্মা গান্ধী জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু-মহাত্মা গান্ধী দুজনই জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমির ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি অডিটরিয়ামে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। সংস্কৃতিসচিব আবুল মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, মহান নেতা বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধী দুজনেই জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। দুজনই ঘৃণ্য বিরোধিতার শিকার হয়েছিলেন এবং আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা সব সময় নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। রাজনৈতিক দর্শন ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উভয়েই জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মহাত্মা গান্ধী আজীবন লড়াই করেছেন অস্পৃশ্যতা, মানুষে মানুষে হিংসা ও হানাহানির বিরুদ্ধে। অহিংস আন্দোলন করে গোটা ভারতবর্ষে পরিচিতি পেয়েছেন বাপু হিসেবে। বঙ্গবন্ধুও ১৯৭১ সালের মার্চের শুরুতে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজীবন একটি স্বাধীন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য লড়াই করেছেন।

ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে এই আয়োজন বলে জানান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি বলেন, মহান দুই নেতাই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তাঁদের জীবনাদর্শ থেকে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা নিতে হবে।

ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সংগ্রাম একসূত্রে গাঁথা। দুই দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের মেলবন্ধন এই প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে। এই প্রদর্শনী নিউ ইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ও কলকাতায় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, প্রদর্শনীটি ২২টি তথ্য দেয়াল ও শতাধিক ডিজিটাল মুহূর্তের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সালে এই দুজন নেতার সরাসরি সাক্ষাতের ছবিকে তাঁদের রাজনৈতিক আদর্শিক সমন্বয় ও ইতিহাসের বিশেষ বার্তা বাহক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘আলো আমার আলো’ ও ‘চলো বাংলাদেশ’ গানের কোরিওগ্রাফি প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশন’ ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৩ নম্বর গ্যালারিতে সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যে কেউ প্রদর্শনী দেখতে পারবেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে গত মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশনের’ পর্দা উন্মোচন করেন। বৈশ্বিক মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে একটু দেরিতে হলেও প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।



সাতদিনের সেরা