kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

৬ বছর পর মৃত্যু রহস্য ভেদ

বাসের ট্রাংকে নারীর লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় বছর আগে চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি বাসের ট্রাংকে এক নারীর লাশ পাওয়া যায়। দীর্ঘ তদন্তের পর সেই নারীর পরিচয় এবং নিহত হওয়ার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান পিবিআই প্রধান ও ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি রেজাউল করিম স্বপনকে গত শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার ইপিজেড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই জানিয়েছে, ২০১৫ সালের ৩ মে চট্টগ্রাম এ কে খান মোড়ে ঈগল পরিবহনের একটি বাসে টিকিট কেটে একটি ট্রাংক তুলে দেন রেজাউল করিম স্বপন নামের এক ব্যক্তি এবং বলেন, পরের কাউন্টার থেকে যাত্রী উঠবে। কিন্তু কোনো যাত্রী না ওঠায় বাস সন্ধ্যায় ঢাকার গাবতলীতে চলে আসে। বাসের জিনিসপত্র নামাতে গিয়ে ট্রাংকটি ভারী মনে হলে বাসের চালক-হেলপার দারুসসালাম থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ট্রাংকটি খুলে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। পরে এসআই জাহানুর আলী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৩ মে আসামি অজ্ঞাতপরিচয় উল্লেখ করে দারুসসালাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে না পারায় মামলা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের ১০ জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে তরুণী নিখোঁজের (জিডি নম্বর-৫৯৯) সূত্র ধরে শম্পা বেগমের পরিচয় শনাক্ত হয়। শম্পা খুলনার দৌলতপুর থানার দেওয়ানা উত্তরপাড়া গ্রামের ইলিয়াস শেখের মেয়ে।

পিবিআই আরো জানায়, শম্পা বেগমের ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান পাহাড়তলী থানায় ওই জিডিটি করেন। জিডির সূত্র ধরে তদন্ত কর্মকর্তা ভিকটিমের ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান ও বাবা ইলিয়াস শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ২০১৩ সালে রেজাউল করিম স্বপন (অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর সদস্য) খুলনা তিতুমীর নৌঘাঁটির একটি হাসপাতালে কাজ করতেন। ওই হাসপাতালে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজ করতেন শম্পা। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে শম্পা রেজাউলকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। পরে রেজাউল চট্টগ্রামে চলে আসেন। পরে পাহাড়তলী থানাধীন উত্তর গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকার একটি বাসায় সাবলেট নিয়ে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। এভাবে তাঁরা ২০১৪-১৫ সালের মে মাস পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসায় থাকেন। পরে রেজাউল করিম স্বপনের সঙ্গে মনোমালিন্য হলে শম্পাকে ২০১৫ সালের ২ মে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।



সাতদিনের সেরা