kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

শয্যা ২২, রোগী ১১৯

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড

মানিক আকবর, চুয়াডাঙ্গা   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শয্যা ২২, রোগী ১১৯

শিশু ওয়ার্ডে শয্যা ফাঁকা নেই। মেঝেতে রেখে চলছে চিকিত্স্যা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গায় শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন ৩০-৫০ শিশু রোগীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। তা ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে প্রতিদিন তিন শতাধিক শিশু রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে। তারা বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকছে। সদর হাসপাতালের মতো একই অবস্থা জেলার অন্য তিনটি উপজেলা হাসপাতালেও। বর্তমানে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা (বেড) আছে ২২টি। অন্যদিকে রোগী ভর্তি আছে ১১৯ জন। ফলে রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ আগে থেকে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। শিশুরা নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি বেশির ভাগ শিশুর বয়স শূন্য থেকে ছয় মাস। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ২২টি বিছানা। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শিশু ওয়ার্ডের ভেতরে রোগী রাখার কোনো ফাঁকা জায়গা নেই। ভর্তি অতিরিক্ত রোগীদের বাইরের বারান্দায় রাখা হয়েছে। রোগী বাড়তে বাড়তে হাসপাতালের সিঁড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে।

সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডের ভেতরে এবং বাইরে রোগীর চাপ। জায়গা কম থাকায় অনেকটা গাদাগাদি করে রোগীদের থাকতে হচ্ছে। ওয়ার্ডের ভেতরে এবং বাইরে রয়েছে আবর্জনা। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধময় হয়ে গেছে পুরো শিশু ওয়ার্ড এলাকা। এতে শিশুরা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

শিশু ওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিল ১১৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৩২ জন। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে ৩০-৫০ জন। সে তুলনায় সুস্থ হয়ে রোগী ফিরে যাওয়ার সংখ্যা অর্ধেক। ফলে রোগী বাড়ছে প্রতিদিন।

হাসপাতালের এক কর্মী বলেন, হাসপাতালের তৃতীয় তলায় পশ্চিম অংশে শিশু ওয়ার্ড। রোগী রাখা হয়েছে সিঁড়ির মুখে। রোগী আরো বাড়লে সিঁড়িতে রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

সদর উপজেলার হাতিকাটা গ্রাম থেকে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন মর্জিনা বেগম। তিনি বলেন, রোগী বেশি হওয়ায় ভাপসা গরম এবং দুর্গন্ধ আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে সুস্থ হওয়ার চেয়ে আরো বেশি অসুস্থ হচ্ছে শিশুরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ৩০০ শিশুকে আউটডোর থেকে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি ছিল ১০৯ জন। নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে, সুস্থ হয়েও কিছু বাড়ি ফিরেছে। এর পরও রোগী কমেনি, বরং বাড়ছে।’

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. মারুফ হাসান বলেন, ‘শিশুদের যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে নজর রাখতে হবে। ফ্রিজের কোনো কিছু খাওয়ানো যাবে না। কোনোক্রমে ঠাণ্ডা লেগে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’



সাতদিনের সেরা