kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে শামীম ওমানেও টাকা লুট করেছিলেন

সিলেটে ব্যাংকের টাকা লুট

সিলেট অফিস   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেটের ওসমানীনগরে ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ২৪ লাখ টাকা লুটের সঙ্গে জড়িত চারজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজনকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে সিলেট জেলা পুলিশ। আর অন্য তিনজনকে এর আগের দিন মঙ্গলবার আটক করে ঢাকা ডিবি পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার এই চারজনকে আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহমদ ও সাফিউদ্দিন জাহির। এই দুজন দীর্ঘদিন ওমানে ছিলেন। সেখানেই তাঁদের সখ্য। ওমানে ব্যাংকের বুথ থেকেও টাকা লুট করেছিলেন শামীম। এ জন্য সে দেশে তাঁকে আট বছর জেলও খাটতে হয়। পরে দেশে ফিরে তাঁরা দুজন ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের ওসমানীনগর থানার শেরপুর নতুন বাজার হাজি ইউনুস উল্লাহ মার্কেটের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) লিমিটেডের নিচতলায় ব্যাংকের এটিএম বুথে প্রবেশ করেন এই চারজন। পরে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ডকে মারধর করে তাঁর হাত ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর এটিএম মেশিনের সামনের দরজা ও লক ভেঙে নগদ ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ওসমানীনগর থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্র্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গত বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত শামীম আহমদ, নূর মোহাম্মদ সেবুল ও মো. আব্দুল হালিম নামে তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচপাড়িয়া গ্রাম থেকে লুটের ঘটনার অন্যতম আসামি সাফিউদ্দিন জাহিরকে গ্রেপ্তার করে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে এটিএম বুথ লুটের ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী সাফিউদ্দিন জাহিরকে গ্রেপ্তারের কথা জানান সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘জাহির এটিএম বুথ লুটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং তিনি এই ডাকাতি ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারীও।’

তিনি জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে টানা তিন দিন হবিগঞ্জ শহরের একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরপর গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন পাঁচপাড়িয়া গ্রাম থেকে সাফিউদ্দিন জাহিরকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। জাহির পাঁচপাড়িয়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের পাশ থেকে বুথের মেশিন ভাঙার শাবল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

গতকাল দুপুর ১টার দিকে সিলেটের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার আদালতে আসামিদের হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।



সাতদিনের সেরা