kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দুইবার সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি কাজ

সজিব ঘোষ   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে কুমিল্লার লাকসাম পর্যন্ত ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের দ্বিতীয় দফার মেয়াদও শেষ। তবু শেষ হয়নি ৭২ কিলোমিটার এই রেলপথ নির্মাণকাজ। গত জুনে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ৭৭ শতাংশ। এরই মধ্যে নতুন করে আরো দুই বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই রেলপথের কুমিল্লা থেকে লাকসাম পর্যন্ত অংশটুকু চলাচলের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। তাই আপাতত কুমিল্লা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার রেলপথ চালু করা হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন কুমিল্লা-লাকসাম অংশটুকু উদ্বোধন করবেন।

বর্তমানে সিঙ্গেল লাইন মিটার গেজ অবস্থায় আছে আখাউড়া-লাকসাম রেলপথ। এটি ডুয়াল গেজ ডাবল লাইনে উন্নীত করার জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) থেকে ২০১৪ সালে অনুমোদন পায়। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ছয় হাজার ৫০৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ঋণ দিচ্ছে চার হাজার ১১৮ কোটি ১৪ লাখ এবং ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) দিচ্ছে এক হাজার ৩৫৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বাকি এক হাজার ২৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।

২০১৬ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ গেল বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে কাজের গতি কমে যায়। সঙ্গে যুক্ত হয় ভূমি অধিগ্রহণ ও সয়েল ট্রিটমেন্টসহ (প্রকল্পের কিছু জায়গার মাটিকে ব্যবহার উপযোগী করা) নানা জটিলতা। এতে করে প্রকল্পের মেয়াদ এ বছরের জুন পর্যন্ত আরো এক বছর বাড়ানো হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।

কুমিল্লা-লাকসাম অংশটি ডাবল লাইন চালু হলে ট্রেন চলাচলে আগের চেয়ে ১৫-২০ মিনিট সময় কম লাগবে। এ ছাড়া আলিশহর, লালমাই ও ময়নামতি রেলস্টেশন দিয়ে আসা বিপরীতমুখী ট্রেনকে সাইড দিতে গিয়ে অন্য ট্রেনকে সিগনালে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। প্রকল্প পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এই পথ চালু হলে সিগনালের কোনো বাধা ছাড়াই ট্রেন চলতে পারবে। বাকি অংশের জন্য আরো দুই বছর সময় লাগলেও ব্যয় বাড়বে না।’

চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন এবং দেশের তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার যৌথভাবে এই প্রকল্পের কাজ করছে। পুরো রেলপথে কম্পিউটারাইজ সিগন্যাল ব্যবস্থাসহ ১৩টি রেলস্টেশন আধুনিকায়ন ও ইয়ার্ড নির্মাণ করার কাজ চলছে। বড় সেতুসহ মোট ৪৬টি ছোট-বড় সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আখাউড়া-লাকসাম ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন রেলপথ পুরোটা চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে ট্রেন চলাচলের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৩২১ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ১১৮ কিলোমিটার আগে থেকেই ডাবল লাইন ছিল। পরবর্তী সময়ে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩১ কিলোমিটার রেলপথ ডাবল লাইন করা হয়েছে। এই রেলপথ নির্মাণ শেষ হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পুরো লাইনটি ডাবল হয়ে যাবে।



সাতদিনের সেরা