kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের মধ্যমণি ছিল দেশের দুঃখী মানুষ’

‘ব্যাংক পরিক্রমার’ বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অসামান্য নেতৃত্বের গুণেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করেছি। তাঁর নেতৃত্বের মধ্যমণি ছিল এ দেশের দুঃখী মানুষ। তাঁর উন্নয়ন দর্শনের মূলে ছিল শোষণহীন সমাজব্যবস্থা কায়েম করা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিআইবিএমের ত্রৈমাসিক জার্নাল ‘ব্যাংক পরিক্রমা’ বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএমের অধ্যাপক ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি। সভাপতিত্ব করেন মহাপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শুরু হয়েছে, যা ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর শেষ হবে। তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে বিআইবিএমের ত্রৈমাসিক জার্নাল ব্যাংক পরিক্রমার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ব্যাংকার ও গবেষকদের ১০টি নিবন্ধ রয়েছে।

ড. আতিউর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তাঁর শাসনামলে আর্থিক খাতের উন্নয়নকে তাঁর জাতীয় নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্বের ঐতিহ্যের আলোকে বাংলাদেশের আর্থিক খাত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশিত এই জার্নালের বিভিন্ন লেখায় আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক মুক্তির গভীরতর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। বঙ্গবন্ধু স্পষ্টতই বলেছিলেন—এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে, যদি এ দেশের কৃষক, শ্রমিক এবং বঞ্চিতজনের অধিকার নিশ্চিত করা না যায়। সেই অভিপ্রায় বুকে নিয়েই তিনি শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধির সোনার বাংলা অর্জনের নয়া সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। মনে রাখতে হবে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ছাই-ভস্ম থেকেই তিনি এমন সম্ভাবনার বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে লেগে পড়েছিলেন।’

আতিউর বলেন, ‘সে সময় আমাদের মোট অর্থনীতির আকার আট বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ছিল। সঞ্চয় ছিল জিডিপির মাত্র ৩ শতাংশ। বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল শূন্য। সেই সংকটাপন্ন অবস্থাতেই তিনি মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছিলেন আমাদের অসামান্য সংবিধানে। খাদ্য, বস্ত্রসহ সব অধিকার তথা অর্থনৈতিক অধিকার অর্জনের জন্য পরিকল্পিত উপায়ে কৃষি ও শিল্পকে সমান গুরুত্ব দিয়ে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন এক লড়াকু বাংলাদেশকে। তাঁর নেতৃত্বের বড় গুণ ছিল জনগণের মনে আশার সঞ্চার করা, সহনেতাদের সঙ্গে নিয়ে পথ চলা। জনগণের সঙ্গে সংশ্লেষ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিশন।’

গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে তাঁর জাতীয় নীতির ভিত্তি হিসেবে আর্থিক খাতকে গড়ে তোলেন। যদিও বঙ্গবন্ধু অর্থনীতিবিদ ছিলেন না, তবে অর্থনীতির বাস্তব অবস্থা এবং জনগণের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে তাঁর গভীর উপলব্ধির কারণে প্রকৃতপক্ষে আর্থিক খাতের সঠিক পরামর্শক হিসেবে উপদেশ দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে সাড়ে ৯ মাস বন্দি থাকার পর যখন জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তখনই তিনি দেশের আর্থিক খাতকে সংগঠিত করার নির্দেশ দেন। জাতির পিতার নির্দেশনা অনুসারে, তৎকালীন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঢাকা অফিসকে বাংলাদেশ ব্যাংক তথা কেন্দ্রীয় ব্যাংক অব বাংলাদেশ করা হয়। এ ছাড়া ছয়টি জাতীয়করণকৃত বাণিজ্যিক ব্যাংক, দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক নিয়ে আর্থিক খাতের যাত্রা শুরু হয়। এই দ্রুত ও অবিশ্বাস্য কাজগুলো আসলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ভিত্তি তৈরি করেছে। জাতির পিতার রেখে যাওয়া এই কঠিন উত্তরাধিকার থেকে আমরা এখনো আর্থিক খাতকে জাতির উন্নয়নের প্রকৃত অনুঘটক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি বলে জানান ফজলে কবির।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ অ্যান্ড ফিন্যান্স ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আব্দুল বায়েস, অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান, বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা