kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বরোগের ওষুধের নামে চলে ধান্দা

সুইসড্রামের পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সুইসড্রাম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রাইভেট কম্পানির পরিচালক কাজী আল-আমিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন এলাকার সুইসড্রাম কম্পানিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর, দুটি সিল, দুটি ব্যানার, চারটি ডায়েরি ও খাতা, একটি রেজিস্টার, কম্পানির ১২৫টি লিফলেট, প্রতারণায় ব্যবহৃত সুইসড্রাম কম্পানির ভুয়া ওষুধ ও প্রসাধনীসামগ্রী, সুইসড্রাম কম্পানির ২৫ সেট ডিস্ট্রিবিউটর ওয়ার্কিং ফাইল, ২৩টি মোবাইল ফোন ও এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৫ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি এস-ফ্যাক্টর নামের একটি ওষুধ (সর্বরোগের মহৌষধ), যা ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ওষুধ বলে প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। এমনকি এই ওষুধ করোনা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে বলেও তারা প্রচার করত। বেশি মুনাফার কথা বলে টাকা নিয়েও ফাঁদে ফেলত তারা। প্রতারণার কৌশল হিসেবে তারা ঘন ঘন তাদের অফিস পাল্টাত।

গ্রেপ্তার ১৭ জন হলেন সুইসড্রাম কম্পানির পরিচালক কাজী আল-আমিন, সালাউদ্দিন, শেখ আব্দুল্লাহ, মনিরা ইয়াসমিন, জাহিদ হাসান, স্বপন মিয়া, শাহজাহান, মিজানুর রহমান, বাদশা ওরফে সুলাইমান, ইমাম হোসাইন, আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আনারুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ফারুক উদ্দিন, আঞ্জুমান আরা বেগম, শেখ রবিন, ইমাম হোসাইন ও আছমা বেগম।

র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক গতকাল জানান, প্রতারকচক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জৌলুসপূর্ণ ও আকর্ষণীয় রেস্টুরেন্টে ভিকটিমদের নিয়ে সভা, সেমিনার, মোটিভেশনাল ওয়ার্কশপ, আকর্ষণীয় লাঞ্চ ও ডিনার পার্টির আয়োজন করত। অসহায়, নিরীহ অর্ধশিক্ষিত এমনকি শিক্ষিত শ্রেণির ভিকটিমরা এ ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে প্রলুব্ধ হয়ে সহজেই তাদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিতেন। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে চক্রটি বিপুল পরিমাণ টাকা লুটে নিত।

র‌্যাব কর্মকর্তারা আরো বলেন, চক্রের হোতা কাজী আল-আমিন দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি নিয়ে কম্পানির নতুন সদস্যদের কাছে প্রবাসী এবং বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। তাঁদের প্রলুব্ধ করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে মনোনয়ন দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।



সাতদিনের সেরা