kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শরণখোলায় আরেক বাল্যবিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন

কালের কণ্ঠের খবরের পর সতর্ক প্রশাসন-জনপ্রতিনিধি

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নবম শ্রেণিতে পড়া মেয়েটির বয়স ১৬ বছর। কিন্তু পরিবার নকল জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে বয়স বাড়িয়ে তার বিয়ের উদ্যোগ নেয়। এ খবর জানতে পেরে প্রশাসনের লোকজন গিয়ে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করে দিয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে চলছিল এই বাল্যবিবাহের আয়োজন। প্রশাসনের লোকজন আসার খবর জানতে পেরে মেয়ের বাবা পালিয়ে যান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মেয়ের মাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাতুনে জান্নাত। মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না বলে মুচলেকাও দিয়েছেন তিনি।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠে ‘এক উপজেলায় ৬০০ বাল্যবিয়ে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর আলোচনায় আসে শরণখোলা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তও শুরু করেছে প্রশাসন। এমন সময় আরো একটি বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবরে ব্যাপক তৎপর হয় প্রশাসন। ইউএনও খাতুনে জান্নাত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুজ্জামান খান ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন ঘটনাস্থলে হাজির হন।

বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া মেয়েটি জানায়, স্থানীয় বখাটেরা তাকে উত্ত্যক্ত করে। মোবাইলে আজেবাজে কথা বলে। মা-বাবা গরিব। তাই প্রতিবাদ করতে পারেন না তাঁরা। মেয়েটি বলে, ‘নিরাপত্তা পেলে আমি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাই।’

মেয়েটির মা-ও একই অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মাইয়াডারে বখাইড্যা (বখাটে) পোলাপানে জ্বালাতন করে। কেউর কাছে কইতেও সাহস পাই না। মোবাইলেও হুমকি দেয় পোলাপানে। তাই মান-ইজ্জতের ভয়তে মাইয়ার বিয়া ঠিক করতে বাইধ্য ওইছি।’

তাঁর ইউনিয়নে আর একটিও বাল্যবিবাহ হতে দেওয়া হবে না জানিয়ে ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন বলেন, মেয়েটি ও তার পরিবারকে সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

উপজেলার কোথাও যাতে বাল্যবিবাহের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, কাজী, গ্রাম পুলিশ ও সুশীসমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রত্যেক পাড়া-মহল্লা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভা আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে ইউএনও খাতুনে জান্নাত বলেন, কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত চলমান রয়েছে।



সাতদিনের সেরা