kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

টিকা নিয়ে উৎকণ্ঠায় সিলেটের প্রবাসীরা

ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে সময়মতো টিকা পাচ্ছেন না

সিলেট অফিস   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিকা নিয়ে উৎকণ্ঠায় সিলেটের প্রবাসীরা

বিদেশ যেতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত টিকার সরবরাহ নেই সিলেটে। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীসহ বিদেশ যেতে আগ্রহী ব্যক্তিরা। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ফাইজার, মডার্না কিংবা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা না থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা। সময়ের মধ্যে টিকা নিতে না পেরে অনেকে টিকা ছাড়াই বিদেশে গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকছেন; এতে তাঁদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

সিলেটে এখন শুধু চীনের তৈরি সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ অনিশ্চয়তা-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রবাসীদের পাশাপাশি শ্রমিক হিসেবে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছেন কয়েক হাজার মানুষ। এ ছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় টিকাকেন্দ্রের সংখ্যাও কম সিলেটে।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মো. লায়েক আহমদ (২৩) মাসখানেক আগে সৌদি আরবের ভিসা পেয়েছেন। কিন্তু তিনি টিকা নিতে পারেননি এখনো। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘অনেকভাবে চেষ্টা করেছি টিকার জন্য, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সবাই বলছে, টিকা নিতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমার ভিসার মেয়াদ আছে মাত্র দুই মাস।’

টিকার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছিল দক্ষিণ সুরমার কামাল বাজারের মুফতিগাঁওয়ের শামসুল ইসলামের। ভিসার মেয়াদ তিন দিন থাকতে অনেকটা বাধ্য হয়ে টিকা ছাড়াই সৌদি আরব পাড়ি জমান তিনি। টিকা না নিয়ে যাওয়ায় তাঁকে সেখানে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। শামসুল আক্ষেপ করে বলেন, ‘টিকা না নিতে পারায় হোটেলে কক্ষ ভাড়া করে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে। এতে আমার বাড়তি ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।’

এদিকে সিলেটে টিকা গ্রহণে আগ্রহীদের চাহিদার তুলনায় টিকাকেন্দ্রের সংখ্যা কম। ফলে টিকাদান ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সিলেট নগরেই নিবন্ধন করে টিকার অপেক্ষায় আছেন ৮৫ হাজার মানুষ। জেলার হিসাবে এ সংখ্যা কয়েক লাখ।

মাত্র তিনটি কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন (এসসিসি)। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আপাতত সিনোফার্ম ছাড়া আর কোনো টিকা নেই। অন্যগুলো এলে দেওয়া হবে। কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো গেলে আরো বেশিসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিন টিকা দেওয়া যাবে।

তবে প্রবাসীদের আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘প্রবাসীদের জন্য অনুমোদিত টিকার সরবরাহ আগামী মাসেই সিলেটে পৌঁছবে।’ টিকার সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা