kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মানসম্মত গণপরিবহনে কমবে ব্যক্তিগত গাড়ি

সজীব আহমেদ   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানসম্মত গণপরিবহনে কমবে ব্যক্তিগত গাড়ি

রাজধানীতে প্রতিদিন যে পরিমাণ যাত্রী চলাচল করে, তাদের মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে। কিন্তু ৭ শতাংশ যাত্রীর জন্য যতগুলো ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে, সেগুলো প্রায় ৭০ শতাংশ সড়ক দখল করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীতে মানসম্মত গণপরিবহনের অভাবেই মূলত ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা (প্রাইভেট কার) বাড়ছে। এর ফলে প্রতিনিয়তই বাড়ছে যানজট। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনায় গণপরিবহনকে প্রাধান্য না দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলে যানজট, জ্বালানিদূষণ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে।

ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীরা বলছে, গণপরিবহন উন্নত হলে ব্যক্তিগত গাড়ির এত চাহিদা থাকত না। মানসম্মত গণপরিবহনের অভাবে বাধ্য হয়েই তারা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছে।

বিশ্বে গাড়ির ব্যবহার এত বাড়ছে যে এরই মধ্যে যানজট কয়েকটি দেশের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিবছরের ২২ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস’ পালিত হয়। প্রথম পালিত হয় ২০০০ সালে। বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে দিবসটি পালন শুরু হয় ২০১৬ সালে। শহরকে যানজটমুক্ত রাখা, গণপরিবহনব্যবস্থার উন্নতি, সপ্তাহে বা মাসে এক দিন রাস্তাগুলোকে গাড়িমুক্ত করে সংস্কারকাজ করা ও খালি জায়গা তৈরি করে খেলাধুলা বা বিনোদনের ব্যবস্থা করাসহ নানা উদ্দেশ্যে এই দিবস পালন করা হয়।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা তিন লাখ ৭২ হাজার ১৩৭টি। এর মধ্যে ২০২০ সালে নিবন্ধন হয়েছে ১২ হাজার ৪০৩টি। আর চলতি বছরের মে পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে ছয় হাজার ১৯৬টি গাড়ি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে মুক্তি চাইলে একমাত্র বিকল্প হলো মানসম্মত গণপরিবহন। মেট্রো রেল মানসম্মত একটি গণপরিবহনব্যবস্থা। আশা করছি, মেট্রো রেল চালু হলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কিছু কমে আসবে।’

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামছুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ি চলার জন্য যেমন জায়গা যায়, থামার জন্য তার চেয়ে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। এ কারণেই পৃথিবীতে সবাই একমত যে ব্যক্তিগত গাড়িগুলোকে নিরুৎসাহ করতে হবে। এসব গাড়িই সড়কে যানজটের প্রধান কারণ। সারা বিশ্ব সচেতনতামূলক কাজের জন্যই এই দিবস পালন করে। কিন্তু আমরা এটাকে একটি তামাশার পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য এ দিবস পালন করা হয়। যেখানে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে একটি বসবাসযোগ্যে শহর গড়ছেন, সেখানে আমাদের দেশ উল্টো পথে হাঁটছে।’

গত ১৮ সেপ্টম্বর ‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২১ : নগর পরিকল্পনায় ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের (নাসফ) সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ১৬০ বর্গফুট জায়গা নেয় এবং বাইরে যতক্ষণ থাকে, তার ৯০ শতাংশ সময় পার্ক করা থাকে।’

পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি খন্দকার এম আনসার হোসেন বলেন, ‘ঢাকা শহরে বাস, রিকশা, সাইকেল ও হেঁটে যাতায়াত বেশি হলেও এই মাধ্যমগুলো সড়কের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারে। অথচ সাড়ে ৫ শতাংশ লোকের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। অল্পসংখ্যক এ মানুষের জন্য নগর উন্নয়ন করতে গিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করছি।’

বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নামবিওর ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৯-এ দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে যানজটের শহর ঢাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কলকাতা।



সাতদিনের সেরা