kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সিলেটে নিজ বাসায় দুই বোনের ঝুলন্ত লাশ

আত্মহত্যা বলছে পরিবার, তবে...

সিলেট অফিস   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিলেটে নিজ বাসার ছাদের কার্নিসে ঝুলন্ত অবস্থায় দুই বোনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরের মজুমদারী কোনাপাড়া এলাকার ৩১ নম্বর বাসা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁরা হলেন এলাকাটির মৃত কলিম উল্লাহর মেয়ে শেখ রানী বেগম (৩৮) ও শেখ ফাতেমা বেগম (২৭)।

একসঙ্গে দুই বোনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আলোড়ন তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, বড় বোন রানী কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ ছিলেন। তাঁর প্ররোচনায় ফাতেমাও তাঁর সঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এটি আত্মহত্যা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের আম্বরখানা ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মফিজুল ইসলাম বলেন, সকাল সোয়া ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যরা দুই বোনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। ছাদের ওপর থাকা পিলারের রডের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁদের লাশ পাওয়া যায়। তিনি আরো বলেন, এই পরিবারের সদস্যদের কিছুটা অ্যাবনরমাল (অপ্রকৃতিস্থ) মনে হচ্ছে। তারা চাপা স্বভাবের। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে তাদের তেমন কোনো যোগাযোগ নেই।

প্রতিবেশী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাসাটিতে মা, দুই ভাই ও তিন বোন থাকতেন। তাঁদের আরেক বোনের বিয়ে হওয়ার পর তিনি যুক্তরাজ্যে থাকেন।

বিয়েতে রাজি না হওয়ার ঘটনা থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন নিহতদের ভাই শেখ রাজন। তিনি বলেন, ‘রবিবার একটা বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল। বরের বয়স কিছুটা বেশি, ৫০। প্রবাসী লন্ডনি, দুই সন্তানও আছে, যে কারণে সে (রানী) প্রস্তাবে রাজি ছিল না। এ নিয়ে ঘরে ঝগড়াও করেছে। আমরা তাকে বলেছিলাম, প্রস্তাব এসেছে মাত্র, বিয়ে তো হয়ে যাচ্ছে না। কনে দেখা হোক, পরে বিয়ে হলে হলো, না হলে নেই।’ কিন্তু তাতেও সায় ছিল না রানীর—এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে সে মা ও বোনের সঙ্গে ঝগড়া করে। ঝগড়া করে সে চাচার বাসায় চলে যায়। এভাবে প্রায়ই সে চাচার বাসায় চলে যায় এবং রাতে ফিরে আসে। কিন্তু গত রাতে ফেরেনি। আমরা ভেবেছি, চাচার বাসায় রয়ে গেছে, সকালে আসবে। কিন্তু সকালে পাশের বাসার লোকজন ডাকাডাকি করে বলে, আমাদের ছাদে মানুষ লটকে আছে। আমরা তখন দৌড়ে ছাদে গিয়ে দেখি দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ।’



সাতদিনের সেরা