kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ধর্মঘটে অচল বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্মঘটে অচল বন্দর

ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ধর্মঘট ► গতকাল থেকে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে তোলা। ছবি : শেখ হাসান

সারা দেশে চলছে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ধর্মঘট। ১৫ দফা দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন পণ্য পরিবহন শ্রমিকরা। এতে করে চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। 

বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তালুকদার মো. মনির বলেছেন, ‘এটা মালিক ও শ্রমিকদের যৌথ কর্মসূচি। আমাদের দাবিদাওয়া মেনে নিলেই আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করব।’

১৫ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো যেসব চালক ভারী মোটরযান চালাচ্ছেন, তাঁদের সবাইকে সহজ শর্তে এবং সরকারি ফির বিনিময়ে অবিলম্বে ভারী যানচালকের লাইসেন্স দিতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের নবায়নের ক্ষেত্রে ফের হয়রানিমূলক ফিটনেস ও পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। সব শ্রেণির মোটরযানের নিয়োজিত সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মতো রেশন সুবিধার আওতায় আনতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এককালীন নগদ ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারিত করতে হবে। গাড়ির যত্রতত্র চেকিং করা যাবে না। পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যসহ সব ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম পাটোয়ারী বলেন, ‘৭২ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দাবি না মানলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই সময়ের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, পিকআপসহ ছোট-বড় যত পণ্য পরিবহনের বাহন আছে, সব বন্ধ থাকবে।

গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেনাপোল বন্দরে যায়নি কোনো ট্রাক। বন্দর থেকেও পণ্য নিয়ে যায়নি কোনো ট্রাক-কভার্ড ভ্যান। ফলে পণ্যবাহী ট্রাকজট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তবে বেনাপোল-শার্শা-নাভারন এলাকায় শ্রমিকদের কোনো পিকেটিং করতে দেখা যায়নি।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বন্দরকে সচল রাখতে সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে ধর্মঘটের কারণে পণ্যবাহী কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে না পারায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কোনো পণ্য ডেলিভারি হয়নি; কোনো রপ্তানি পণ্য বন্দরের ভেতরে ঢুকতে পারেনি। সব জাহাজ জেটিতে অবস্থান নিলেও জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া স্বাভাবিক ছিল। গতকাল তিনটি জাহাজ জেটিতে প্রবেশ করেছে আর তিনটি জাহাজ জেটি ছেড়েছে। ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করবে।

(এই প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও বেনাপোল প্রতিনিধি)



সাতদিনের সেরা