kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চোরচক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৭

গার্মেন্ট পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ার জয়ন্তী নিটওয়্যার লিমিটেডের পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান গত মে মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। সেই মালপত্র ইংল্যান্ডে ক্রেতার হাতে পৌঁছার পর দেখা যায়, সেখানে ১১ হাজার পিস পণ্য কম। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করে জয়ন্তী কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নেটওয়ার্ক ক্লোদিং লিমিটেড নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচ হাজার পিস কাপড় চুরি হয়। তাদের তৈরি শিশুদের পোশাক চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে জার্মানিতে যাচ্ছিল। পরে এই প্রতিষ্ঠানও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করে। এ দুটি ঘটনায় দায়ের করা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে রপ্তানির পোশাক চুরির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চক্রের মূল হোতা মো. সাহেদ ওরফে সাঈদ ওরফে সিলেটি সাঈদ ও তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ রাজ্জাক, আল আমিন, দুলাল হোসেন, মো. ইউসুফ, মো. মাইনুল ও খায়রুল।

গতকাল সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ডিবির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গত শুক্রবার ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীর উত্তরা ও কুমিল্লার বুড়িচং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের প্রধান সাঈদসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চার হাজার ৭০৫ পিস গার্মেন্ট পণ্যসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।

ঘটনাটি চুরির হলেও এ ধরনের চুরি দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করছিল জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান বলেন, পণ্য খোয়া যাওয়ায় গার্মেন্ট কারখানাগুলোকেও ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছিল। শুধু জয়ন্তীকেই ২৮ হাজার ৯০৮ ডলার জরিমানা দিতে হয়েছে ক্রেতাকে।

চোরচক্রের প্রধান সাঈদ ওরফে সিলেটি সাঈদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৪টি মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারে। সেখানে তিনি দ্বিতল ভবন, ইটভাটা ও ট্রাকের মালিক। তাঁর এক স্ত্রী থাকেন বাংলাদেশে, আরেক স্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকেন লন্ডনে। চট্টগ্রামের ছয় মামলায় আট মাস জেল খেটে বেরিয়ে সাঈদ ফের সক্রিয় হন।

সাঈদের তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চোরচক্র অন্তত পাঁচ হাজার ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান থেকে পণ্য চুরি করেছে। এসব পণ্যের দাম কয়েক হাজার কোটি টাকা। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মহাসড়কে মূলত এই চুরির ঘটনা ঘটছে। বন্দরে যাওয়ার পথে পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চোরচক্র মালপত্র নামায়। পরে এগুলো তারা ছোটখাটো বায়িং হাউসের কাছে বিক্রি করে দিত। ক্রেতার তালিকায় অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও জোনাল টিম ঢাকা মহানগরীর উত্তরা এলাকা থেকে প্রথমে চক্রের সদস্য রাজ্জাক, ইউসুফ, খায়রুল ও মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লার বুড়িচং থানা এলাকা থেকে চোরাই গার্মেন্ট পণ্য ও দুটি কাভার্ড ভ্যানসহ আল-আমিন ও দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্য মতে চক্রের মূল হোতা সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।



সাতদিনের সেরা